বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস

অজিত দত

জিজ্ঞাসা কলিকাতা-২৯ কন্পিকাতা-৯

প্রকাশক শ্রীশকুমার কুণ্ড জিজ্ঞাসা ৬৩৩» ব্রাসবিহ্থারী আভিনিউ, কন্পিকাতা-২৯ ৩৩» কতেজ রো» কলিকাতা -৯

প্রথম সংস্করণ$+ ভাদ্র, ১৩৬৭ বঙ্গাব্ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০

মুদ্রাকর শ্রীইক্ছজিৎ পোদ্দার শ্রীগোপাল প্রেস ১২১, ব্বাজা হ্বীনেক্্র স্্রীট, কন্পিকাতা1-৪

রাজশেখর বস্তু স্মরণে

1১১7 4 রি | খন আও

পরিচ্ছেদ

সূচীপত্র

বিষয় পৃ অবতরণিকা -০- ৮** ১২৭ হাস্যরসের বৈচিত্র্য স্বরূপ _- বিভিন্ন লেখকের মত __ স্যাটায়ার উইট _- সংস্কৃত সাহিত্যে হাস্যরসের স্থান __ প্রতীচ্য প্রাচা দৃষ্টিতে হাস্যরস। মধ্যযুগ নবযুগের উন্মেবকাল -** ২৮৫৭ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বৃন্দাবন দাস __ ভারতচন্্ দা পৌলাই-_কি-াদাগদ-_ নবযূগের কবিত। রা রঃ ৫৮--৮৯ দীনবন্ধু মিত্র-_হেমচন্জ্র বন্দোপাধ্যায়-_ছিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর -_ ইন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় _- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। নবীন নাটকের আবির্ভাব ০ত৯০৬৭ প্রথম যুগের প্রহসন _- রামনারায়ণ তর্করত্ব _ মাইকেল মধুহদন দত্ত -__ দীনবন্ধু মিত্র _ জ্যোতিরিক্্র নাথ ঠাকুতু-_ গিরিশচন্দ্র ঘোষ __ অমৃতলাল বস্থ _ স্বর্ণকুমাঁরী দেবী-_ লাল রায় _- অমরেন্দ্রনাথ দত্ত গগ্ের প্রথম যুগ নান 25, ১৬৮৮৮ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্ভালংকার -_ ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় -_-ঈশ্বরচন্জ্র বিগাসাগর-_প্যারীটাদ মিত্র--কালী- প্রসন্ন সিংহ -- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় __ অক্ষয়চন্্ সরকার -_ ইন্ত্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় _- যোগেন্দরচন্ বন্ধ -_ ভ্রলোকানাখ মুখোপাধ্যায়

|%০

পরিচ্ছে বিষয় পৃষ্টা রবীন্দ্রনাথ "০ "০৮ ২৮৯-৩৩০ রবীন্দ্রোত্তর সাহিত্য :.. '** ৩৩১--৪৭৫

হরিদাস হালদার __ উপেন্্রকশোর রায় চৌধুরী _ কেদ্দারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় -_- ললিতকুমার বন্দোপাধ্যায় __ প্রমথ চৌধুরী __ প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়_-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় -_ রাজশেখর বন্ধ __ সতোন্রনাথ দত্ত -_- সুকুমার রায়-_জীবিত লেখকগণ

নির্দেশিকা ৪৭৭

ভূমিকা

১৯৫৯ সালের গ্রীষ্মকালে বাংল! সাহিত্যে হাস্তরস সম্বন্ধে একটি বক্তৃতা দিতে গিয়ে এবিষয়ে উপযুক্ত সমালোচনা গ্রন্থের অভাব বিশেষভাবে অস্ুভব করেছিলাম পি অধ্যাপক স্বর্গীয় চারচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 'খবীষ্টায় উনবিংশ শতাব্দীর বাংলাসাহিত্যে হাস্যরস” বিষয়ে সর্বপ্রথম একটি আলোচনা গ্রস্থ প্রকাশ করেন। বিষয়ে প্রথম আলোচনার গৌরব তারই প্রাপ্য। কিন্ত তাঁর বইটি ছিল সংক্ষিপ্ত, বাংল! সাহিত্যের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র তার আলোচনার ব্ষয়ীভূত হয়েছিল তার বইটি পড়ে মনে হয়, তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনে বিষয়ে একটি মোটামুটি ধারণামাত্র তিনি উপস্থিত করতে চেষ্টা করেছিলেন। স্ুলিখিত হলেও, এ-বইটি থেকে বাংলা সাহিত্যে হাস্তরসের একটি স্থসম্পূর্ণ ধারাবাহিক ইতিহাস অথবা! বিভিন্ন বান্গ হাস্তরসিক লেখকের রচনার আপেক্ষিক মূল্য সম্বন্ধে কোনো ধারণ। পাওয়া! যায় না।

এর পরে বিচ্ছিন্নভাবে দু'একজন বিশিষ্ট লেখকের হাস্যরস সম্বন্ধে ছু' একখানিবই প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু বহু কৃতী লেখকের কৌতুক বাঙ্গ রচনা এখনও পরিপূর্ণরূপে আলোচিত হয়েছে বলে মনে করি না। ্টনতক্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, বঙ্ছিমচন্্র সন্ধে আজ পর্যন্ত বহু বই লিখিত হয়েছে সত্য, কিন্তু তার হাস্যরসাশ্রিত রচনাগুলি-__ বিশেষতঃ “কমলাকাস্ত' সমন্ধে কোনে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমরা আজও পাইনি। এই অভাৰ মোচনের উদ্দেশ্টে গত বৎসর এ-বিষয়ে একটি পরিপূর্ণ আলোচনাগ্রন্থ রচনায় হাত দিতে মনস্থ করি। কাজে হাত দিয়ে দেখা গেল, বিষ অতি বিভ্তত। আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে বিষয়টির গুরুতও কম নয়। বাংলা সাহিত্যে নবধুগের প্রথম উদ্মেষকালে, সাহিত্যে উচ্চ ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার আগ্নে, ব্যঙ্গাত্মক নকৃশা জাতীয় রচনারই প্রাহুর্তাব দেখা গিয়েছিল। আধুনিক কালে তো হাশ্যরসাশরিত রচনার যথেষ্ট প্রসার উৎকর্ষ ঘটেছে) বর্তমান গ্রন্থে এই জাতীয় রচনার একটি ধারাবাহিক ইতিহাসের সন্ধে

বিভিন্ন সময়ের হাস্তরপিক লেখকদের রচনাবলীর যথাসম্ভব পূর্ণ পরিচয় দেবার এবং এ-বিষয়ে তাদের আপেক্ষিক কৃতিত্ব মূল্য নিক্বপণের চেষ্টা করেছি প্রাচীন মধ্যযুগের সাহিত্যে হাস্যরস সম্বন্ধে খুব বিস্তৃত আলোচন৷ বর্তমান গ্রন্থে সম্িবিষ্ট হয় নি। কেননা, সে-সময়ে।বিজয় গুপ্ত প্রমুখ অধিকাংশ লেখকের রচনায় হাসি উৎপাদনের জন্ত মাঝে মাঝে যে-ধরণের রলিকতার অবতারণ! করা হয়েছে, তা এতই স্থুল গতানুগতিক যে, সেগুলি উদ্ধৃত করে বইটিকে একটি তালিকায় পরিণত করা আমার উদ্দেশ্ঠ ছিল না মধ্য যুগের সাহিত্যের যতটুকু হাস্যরস আলোচনার যোগা বলে মনে করেছি, সেটুকুই মাত্র এ-গ্রন্থে উপস্থিত করেছি

এ-বইখাঁনির আলোচ্য বিষয় বাংলাসাহিত্যে হাস্তরস হলেও, এখানে যেসব লেখকের হাহ্য ব্যঙ্গাক্সষক রচনার আলোচনা করা হয়েছে, তাদের লেখার সাধারণ বৈশিষ্ট্য, বাংলাসাহিত্যে তাদের স্থান এবং তাদের সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব দাহিত্যকুতিত্বের সকল দ্িকই আলোচন! করা আমি প্রয়োজন যনে করেছি কারণ, আমার বিশ্বাস, কোনো লেখকের রচনা! থেকে (কেবলমাত্র তার হাস্যরসটুকু আলাদ|! করে নিয়ে বিচার কর! সম্ভব নয় হাপ্যরসে ব! সাহিত্যের যে-কোঁনে। বিভাগেই লেখকের কৃতিত্বকে ভালো! করে বুঝতে হলে তার সাহিত্যিক-ব্যক্তিত্ব তার সবাঙ্গীণ সাহিত্য- কৃতিত্বকেও বোঝা দরকার অন্যথা, সাহিত্যে আবির হান্যরসাশিত বুচনাগুলির একটি বিবরণ উপস্থিত কর! যায়, কিন্তু যথার্থ আলোচন! করা! সম্ভব হতে পারে না এ-কারণে, যে-সকল লেখকের রচনা আমি আলোচনা করেছি, অপেক্ষাকৃত দীর্ধাকারে তাদের ব্যক্তিত্ব, প্রবণত! এবং সাধারণ সাহিত্যিক গুণগুলিরও আলোচনা প্রয়োজন মনে করেছি

রধীন্ত্রপূর্যযুগের আলোচনা অংশে বিভিন্ন লেখককে জন্মতারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত করা হয়নি। যিনি যখন সাহিত্যে অবতীর্ণ হয়েছেন, তখনই তাকে উপস্থিত করা হয়েছে। এর কারণ, সে সময়ে "নেক বয়োজ্যোষ্ঠট লেখকও কনিষ্ঠ লেখকের প্রভাবে বা প্রতিক্রিয়ারপে সাহিত্য রচনায়, অবতীর্ণ হয়েছেন যেমন, বয়ঃকনিষ ঈশ্বরচন্দ্র বিভ্যাসাগর

/০

অক্ষয়কুমার দত্তের সংস্কিতবহুল এবং অল্পশিক্ষিতের অনধিগম্য ভাষার প্রতিক্রিয়ারূপেই বয়োজ্যো্ঠ প্যারী্টাদ মিত্রের আলালী ভাষার আবির্ভাৰ গিরিশচন্দ্র ঘোষ অগ্রজ হলেও জ্যোতিরিক্্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব আত্মসাৎ করেই তিনি রোমান্টিক নাটক রচনায় অবতীর্ণ হন। এ-সব কারণেই, রবীন্তপূর্ববর্তী যুগের গগ্ঠ পদ্য নাটকের আলোচনায় কোনো কোনো রবীন্দত্রকনিষ্ঠকেও স্থান দেওয়া হয়েছে এই লেখকদের রচনায় রবীন্দ্রনাথের অথব! রবীন্দ্রযুগের ভাষা মনোভাব বা চিস্তার কোনো! লক্ষণীয় প্রভাব দেখা যায় নি।

রবীন্দ্রপরবর্তী যুগের আলোচনায়, একই কারণে, রবীন্দ্রনাথের অপেক্ষা বয়সে অল্পবড় ছু,একজন লেখককে অন্তরভূক্ত করা হয়েছে এবং জন্মতারিখ অনুসারেই লেখকদের উপস্থিত করা হয়েছে এর কারণ এই যে, এ-যুগের প্রায় সকল লেখকই, ভাষায় ভঙ্গিতে বা মনোভাবে রবীন্দ্রনাথ দ্বিজেন্্লাল রায় ছার! প্রভাবিত হয়েছেন। তা ছাড়া, এ-যুগের বিশিষ্ট লেখকদের পারস্পরিক প্রভাবও বহুধা বিস্তৃত হয়েছে এই বিভিন্ন প্রভাবের বহুমুখী ধার] পৃথক্ভাবে নির্ণয় করা ছুঃসাধ্য। একারণে এই অংশে জন্ম- তারিখ অনুসারে লেখকর্দের আলোচনাই সঙ্গত মনে করেছি বিশেষতঃ এ-বুগের বহু জনপ্রিয় সর্বজনশ্রদ্ধেয় লেখক বিলম্বে সাহিত্যক্ষেত্রে অবতীর্থ হয়েছেন। এ-প্রসঙ্গে কেদারনাঁথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রাজশেখর বস্থ প্রভৃতির নাম করা যায়। এদের আলোচনা আমি কনিষ্ঠদের পরে উপস্থিত করতে অনিচ্ছুক ছিলাম কে ননা, কনিষ্ঠ লেখকদের প্রভাব এদের রচনায় সুগ্রকট নয়

জীবিত লেখকদের কোনে। বিস্তৃত আলোচনা বা তাদের রচনার মূল্য নিরূপণের চেষ্টা আমি সংগত মনে করি নি। কিন্তু তাদের নাম তাদের রচনাবলীর উল্লেখ করেছি জীবিত লেখকদের মধ্যে ছু'“একজন অতিপ্রবীণ কৃতী হান্তবূসিকের রচনা এখন বিশ্বৃতপ্রায় বলে উদ্ধৃতি দ্বারা তাদের কৃতিত্বের . কিছু পরিচয় দিতে চেষ্টা করেছি

আমার এবং প্রকাশকের বিশেষ চেষ্টা সত্বেও বইটির মধ্যে কয়েকটি গুরুতর ছাপার তুল রয়ে গেছে এর মধ্যে ছুটি অতি গুরুতর ২৬ পৃষ্ঠায়

|%/০

হোরেস ওয়ালপোল নামটি হিউ ওয়ালপোল হয়ে গেছে এবং ৩৩৬ গ্ৃঠায় টুনটুনির বই” উপেন্ত্রকিশোরের একমাত্র প্রকাশিত কৌতৃকাশ্রিত গ্রন্থ কথাটির থেকে “কৌতুকাশ্রিত' শবটি বাদ পড়ে গিয়ে অর্থবিপর্যয় ঘটিয়েছে শুদ্ধিপত্রে” এপ আরো কয়েকটি তলের তাপিক! দেওয়া গেল।

এই গ্রস্থরচনায় অধ্যাপক শ্রীযুক্ত স্থৃকুমার সেন আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন, সেজন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। অন্তান্ত বিষয়ে) বিশেষ করে রাজশেখর বস্তু স্থকুমার রায় সম্বন্ধে তথ্যাদি দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছেন, এম্‌. সি. সরকার এগ সন্দ-এর কার্যাধাক্ষ শ্রীযুক্ত সুধীরচচ্জর সরকার. শ্রীযুক্ত হিরণকুমার সান্থাল, শ্রীধুক্ত স্থুবিমল রায় এবং শ্রীযুক্ত সত্যজিৎ রায়। সেজন্ত এদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ খণী।

এই বইয়ের প্রকাশক “জিজ্ঞা্া”র স্বত্বাধিকারী আমার গ্রীতিভাজন ্প্রীশচন্ত্র কুণ্ড এই বইটির ক্রুত এবং সু মুদ্রণে বিশেষভাবে সাহাষা নাঁ করলে এত শীঘ্র বইটি প্রকাশ কর সম্ভব হোত না। বইটির মুদ্রণ গ্রন্থনের পরিচ্ছমতা পারিপাটোর জন্য ধন্যবাদ তারই প্রাপ্য

বইটির রচনাকালে অধিকাংশ দময়ে আমাকে জাতীয় গ্রন্থাগারে কাজ করতে হয়েছে। সে-সময়ে সহকারী গ্রস্থাগারিক শ্রীযুক্ত চিত্তরপ্রন বন্দ্যোপাধায় শ্রীযুক্ত অমিয়কান্ত রায় এবং কর্মচারীদের মধ্যে শ্রীযুক্ত তারকেশ্বর গঙ্গোপাধ্যায় গ্রমুখ অন্যান্ত কয়েকজনের কাছ থেকে নানারূপ' সাহায্য পেয়ে বিশেষ উপকৃত হয়েছি। তাদের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১লা ভাদ্র, ১৩৬৭ অজিত দত

“উঠছে হাসি ভন্ভনিয়ে সোভার মতন পেট থেকে |” স্থকুমার রায়

++1708607১ 2190 £776 22071. 128/0799 2৮82) 2০%.১ 5৮118 ৬/17০6127 ভ/1100য

পশজাতির সঙ্গে মানবজাতির একটি প্রধান পার্থক্য এই যে মানুষ হাসে, কিন্ত জন্ত-জানোয়ারেরা হাসে না পশুজগতেও দু'এক জাতের বনমানুষ হাসে বলে শোনা যায়, এবং তাদের আমরা মানবেতর প্রাণিজগতে শ্রেষ্ঠ বলে গণন। ক'রে থাকি। সুখ, আনন্দ, আমোরের অনুভূতি পশুপাখিরও থাকতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করবার জন্ত স্বতন্ত্র কোনো পন্থা তাদের জানা নেই। কিন্ত দুঃখ সুখ এমনকি অল্প ছুঃখ, বেশি ছুঃখ, আনন্দ, আমোদ, কৌতুক প্রভৃতিকে নানা ধরণের হাসি দিয়ে প্রকাশ করতে মানুষ ভালো! ক'রেই জানে। মানুষের হাসি তাই বিভিন্ন ধরণের, বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে মানুষের জীবনে এই হাসির স্থান কান্নার চেয়ে কম নয়, সম্ভবতঃ বেশি। কারণ, অতি ছুঃখী মানুষও কৌতুকজনক কোনো দৃশ্য দেখে বা কোনো মজার কথা শুনে হাসে, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে হান্যপরিহাসেও সে যোগ দেয়। দারুণ ছুঃখেও ভাগ্যের পরিহাস ম্মরণ রে মানুষ না হেসে পারে না। তাই কৰি বলেন, “হায় কি হোলো! __ কলম ছু'তে হাসি এলো ছুখে” ! এমন যে মানবের বিশিষ্ট সম্পদ, মানবজীবন ব্যাপ্ত কর! হাসি, সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে তার স্থান হওয়াটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশিত। সাহিত্যের মধ শিল্পী যখন হাসির উপকরণ সন্গিবেশ করেন, তখনই তাকে হাস্যরস বলা হয়। হাস্যরস একটি ব্যাপক নাম। সাহিত্যে এই হাশ্যরসের প্রকৃতিভেদ স্তরভেদ আছে তি প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর দার্শনিক পণ্ডিতের হান্যরসের প্রকৃতি স্বরূপ নির্ণয় করতে চেষ্টা ক'রে আসছেন।) কেবল সাহিত্যের অন্তর্গত হান্তরস নয়, কৌতুক-হাস্য জিনিসটা কী, কিসে মানুষের কৌতুকবোধ জাগ্রত এবং হাঁসির উদ্রেক হয়, 'এই কৌতুক-হান্তের মাত্রা বা লীমারেখাই . বা কতদূর, সবই সাহিতযবেত্া, আলংকারিক দীর্শনিক সমাজের

| বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

আলোচনার বিষয়ীভূত হয়েছে 1 কারণ, এ-কথা সকলেই.মানবেন যে, স্তুখে বা! আনন্দে মাচ্ছষের হাসাটা যত স্বাভাবিক সহজবোধ্য মনে হয়, কখনো! আবার স্ুখাবহ ঘটনার আভাসমাত্র না থাকা সত্বেও কোনে কিছু দেখে শুনে হঠাৎ হেসে ওঠাটা তত সহজে ব্যাখ্যা করা চলেনা। সুখ, আনন্দ, আরাম প্রভৃতির সঙ্গে কৌতুক-হাস্থয বা 1)81000:-কে এক কণ্রে দেখা যায় না। পূর্বেই বলেছি কৌতুক-হাস্য নানা জাতের, নানা শ্রেণীর হতে পাকে। এগুলির পার্থক্য বোঝাবার জন্য আমরা অনেকগুলি নাম র্যবহার ক'রে থাকি যথা, বঙ্গ, ব্যঙ্গ, তামাশা, ঠাট্রা, পরিহাস, বিজ্প, ভাড়ামি, রসিকতা ইত্যাদি এই সব সংজ্ঞা দ্বার আমরা হাসির প্রকারভেদ স্তরভেদ বোঝাতে চেষ্টা করি। মোটামুটিভাবে এদের সবগুপিকে এক কৌতুক-হ্াস্তের পর্যায়ে ফেললে আলোচনার সুবিধা হয় রবীন্দ্রনাথ এ-নাঙ ব্যবহার করেছেন আমরাও এই কৌতুকহাস্ত শব্দটিকে ইংরেজী [000082- এর সমপর্যায়ে ফেলে কাজ চালাতে পারি ?

! গ্লেটোনআরিসটট্‌ল্‌ থেকে আরম্ভ ক'রে পাশ্চাত্য দেশীয় এমন খুব কষ দার্শনিক পণ্ডিতের নাম করা যায়, যিনি কৌতুকহাস্য বা হাস্যরসের স্বরূপ এবং প্রকৃতি নির্ণয়ের চেষ্টা করেননি কিন্তু কোনো পঙ্ডিতের কোনো ব্যাখ্যাইি পরবর্তী পণ্ডিত, দার্শনিক লেখকদের দ্বার! বিনা দ্বিধায় পরিপূর্ণরূপে গৃহীত কয়নি।) সে কারণে, আজ পর্যন্ত কৌতুকহান্তের স্বরূপ সংজ্ঞা: নির্দিষটক্লপে নিরূপিত হতে পারেনি টা তামাশায় যখন আমরা সকলেই হাসি, এবং মজার গল্প পড়ে, মজার কথা শুনে, মজার দৃশ্য দেখে গুরশস্তীর হয়ে বসে থাকি না, তখন ও-জিনিসটার সঙ্গে আমাদের বেশ ঘনিষ্ঠ পরিচয় আছে বলেই মানতে হবে। কিন্তু আমরা তো দূরের কথ] বড় বড় পরথ্িতেরাও কৌতুক-হাস্ডের স্বরূপ নির্ণয় করতে গলদ্ঘর্ম হন।

মানুষ কিসে মী! পায়, কেন সে কৌতুক বোধ ক”রে হান্গে _- প্রশ্নটা পুরোনো কিন্ত এর উত্তরে শেষ কথাটি বল হয়ে গেছে এমন মনে করা চলে না। পাশ্চান্যদেশে অতি প্রাচীনকাল থেকেই নাটককে আশ্রয় ক'রে সাহিত্যের পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। সে জন্য পাশ্চাত্যদেশয় সাহিত্যবেত। মনীষীদের মতামত প্রধানত কমেডি বা হাস্তরসাশিত মিলনাস্ত নাউককে

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

অবলম্বন ক'রেই ব্যক্ত হয়েছে। (প্রতীচীর অন্ততম আদি তব্ব্যাখ্যাত। আরিস্টটুল্‌ কমেডি অর্থাৎ হাম্যরসাত্মক নাটক সম্বন্ধে বলেছেন, “0০076৫5 15 21) 11001090010 0: 01791906022 01 2. 10০] (5০, 1806 100/962 11 096 ৫0]] 527855 01 0106 ৮010. 080, 00০ 180151005 1706116 00816] 50001515101) 06 00০ 051.৮--7706805 | অর্থাৎ নীচ ধরণের চরিত্রের অন্তকরণ দ্বারাই হাস্যরসের হৃষ্টি হয়। এখানে নীচ. বলতে ঠিক খারাপ কিছু বোঝাচ্ছে না, বরং একে কুৎ্সিতেরই একটি অংশ বলে গণ্য করা চলে। আরিস্টটুল আরো! বলেছেন যে হাসির উপকরণ হচ্ছে “90716 ০০০০৮ 0: 10511)655 ড118101) 0065 7006 17079] 78378” পরবর্তী দার্শনিকেরা মূলতঃ এই উক্তিটি অবলম্বন করেই কৌতুকহাস্তের সংজ্ঞা স্বরূপ নির্ণয় করেছেন (টঁসিসেরো আরিস্টটুলের মতই গ্রহণ করেছিলেন, এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে টমাস হষ্স্‌ (10012085 73010065 ) এই মতের উপর 7

ক'রেই কোৌতুক-হান্যের কারণ উপাদান সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ 1,8%01707%-এ তিনি লিখছেন, “90017. €101 25 01১6 708.951010. ড713101) 120915661) 01)052 £111702025 ০8110 15051)61 9100 55 ০88520 05 50106 06£010)60 61211)6 11) 2300161 0 50109811500 0০:20 0055 58৫061015 ৪.0012110 (11610501505. £১100 1019 ঠ00106106 00056 00 00610, 0020 21:62 00175010185 ০1 002 16256 2101110655 0061005215625 ; 100 21:29 191০0, .0০0 16560 00610561555 11 01021 0৬10 8021, 05 01056715116 (186 1100921620010105 0৫6 00021 72007. 400 00212001610] 18104100628 006 0০০০6 06 0030615১115 2. 5161) 01 7815111917110165. ঢ০ 06 £:586 001705, 016 0৫6 0০ 7010001 40110 15 ০0 1391১ 2100 262০ 00391500120 5০010 7 2100 001101981:2 01)610092159 97015 চা) 05৩ 10090 2015.” অর্থাৎ, (রর দু্শী দেখে নিজের উৎকর্ষ উপলদ্ধি ,ক"রে আত্মপ্রসাদেই মানুষ মজী পেয়ে হাসে অধিকাংশ মাচষেরই ব্যক্িগত সামর্থ্য কৃতিত্ব অতি সামান্য, এবং সে বিষয়ে তারা ষথেষ্টই সচেতন; কাজেই অন্যকে )নাকাল হতে দেখলে অথবা অন্যের

[ও বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

'অসম্পূর্ণতা দেখলে কোনো-না-কোনো বিষয়ে নিজেদের মহিমা! উপলব্ধি করবার সুযোগ পায় বলেই মানুষ হাসে। অবশ্য এরূপ কারণে হাস! যে সংকীর্ণ মনের লক্ষণ হযূন্‌ সে কথা যোগ করতে ভোলেন নি। আত্মমহিমা উপলব্ধি অথবা আত্মপ্রসাদে হাসার যে ব্যাষ্খুটি হহ্দ্‌ দিয়েছেন, পরবর্তী অনেক দার্শনিক পণ্ডিতই তা গ্রহণ করেছেন 65০81065, 121200109815, 14275010, 3০০3, এবং 73:50 প্রভৃতি মোটামুটিভাবে এই মত সমর্থন করেছেন। অপরপক্ষে, [7686], ৪76, 901500210158021 £1610610 515০21 প্রভৃতি দার্শনিক এবং ০1919, 1681) 7৪01 8301) (৪11516, 1178০262185 এবং আধুনিক কালে 1817761, 760১ [68০00]. প্রভৃতি লেখক সাহিত্য-সমালোচকগণ কৌতুক-হাশ্যের অন্তান্ত কারণ নির্দেশ করেছেন।

(হয্স্‌ প্রমুখ পণ্ডিতদের মত যদি সত্য হয়, তাহলে অপরের প্রতি অবজ্ঞা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব, এমন কি অন্যকে আঘাত দেওয়ার প্রবৃত্তি, হাস্তরসের মূলে আছে বলে মেনে নিতে হয়।1 অবশ্ত হাসি নানা জাতের নানা শ্রেণীর আছে। আর, আত্মতৃপ্তি, আত্মপ্রসাদ, এবং অপরের প্রতি অসথয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কাজেই কেউ জব্দ বা নাকাল হলে অনেকেই না হেসে পারে নাঃ সেটা কিছু অস্বাভাবিক নয় ) কেউ চেয়ারে বসতে গেলে পিছন থেকে চেয়ার সরিয়ে নিয়ে লে আছাড় খাওয়ানো একটি পুরোনো জনপ্রিয় রসিকতা একজন মোটা লোক চৌকি ভেঙে মাটিতে পড়ে গেলে প্রচুর হাসি উৎপন্ন হয়। রবীন্দ্রনাথ এ-জাতীয় হাসির দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছেন, “অনেকে গালিকে ঠাট্রার স্বরূপে ব্যবহার করিয়া থাকেন; বাঁসরঘরে কর্ণমর্দন এবং অন্তান্ঠ পীড়ননৈপুণ্যকে বঙ্গসীমস্তিনীগণ একশ্রেণীর হাস্যরস বলিয়া স্থির করিয়াছেন ।” কিন্তু একথা শ্বীকার না ক'রে উপায় নেই যে এ-জাতীয় হাসি অত্যন্ত স্ুল নিচু শ্রেণীর হাসি শিক্ষিত সংস্কৃতিপরায়ণ বয়স্ক লোক এই রকম কিছু দেখে হেসে ফেল্লে নিজেই লঙ্জিত বোধ করেন, এবং সাহিত্যে জাতীয় ' রসিকতা প'ড়ে কিছুমাত্র মজা পান না। |কাজেই হয্স্‌ প্রমুখ পণ্ডিতদের মত আংশিকভাবে মেনে নিয়ে এইটুকু মর বলা যায় ধে অপরের তুলনায় নিজের শ্রেষ্টত্ব উপলব্ধি ক'রে সেই আত্মপ্রসাদ থেকেও মানুষ হাসির

বাংলা সাহিত্যে হাশ্যরস

উপকরণ পায় বটে, কিন্তু এই. আত্মপ্রসাদই হাস্তরসের একমাত্র উপাদান বা উৎস নয়। ভণ্টেয়ার, অপরকে খোঁচা বা আঘাত দিয়ে নিজে যথেষ্ট মজা পেলেও, হাস্যরস সম্বন্ধে অন্যরূপ ধারণা পোষণ করতেন। তিনি বলেছেন, “1,90810061 212:55 21565 010. 2 91665 06 15009161010, 82050106615 11)00100201012 10) 50100210006 200. 12016778000, জার্মান হাশ্তরসিক 1521) 7৪01 7২101)027-ও এই জাতীয় মত পোষণ করতেন আর 9100928 অপরকে আঘাত বা বিজ্রপ ক”রেই হাস্তরস উৎপন্ন হয়, এ-মত সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন ষে, “[.0581057 ৪00 195 ৪16 10700 ০৫ 105.৮ | কাণ্ট, হাস্যরসের যে সংজ্ঞা নির্দেশ করেছেন, তাতে কিছুটা নৃতনত্ব আছে, কিন্তু সম্পূর্ণতা আছে কি না সন্দেহ (তিনি বলেছেন যে, কৌতুক-হাস্য হচ্ছে 2], 2:62001010 20151176010 00০ 500061) 0210751011090010, ০0: 501217520 ০0০00201012 11000 1)061117. স্বাভাবিক ভাবে যেটা ঘটা উচিত সেটা! ঘটলো না, কোনো! একটি ঘটনার জন্য আমাদের প্রত) প্রত্যাশ! হঠাৎ শৃন্তে মিলিয়ে গেল, অর্থাৎ কোনো একপ্রকার অসংগতির আকসম্মিক উপলব্ধি, হাসির কারণ বটে 90150001719 8: কথাটি অনেকটা স্পষ্ট ক'রে বলেছেন, 70172 02052 01 18061)067 11 6561৮ 5890 15 006 500061) [921:০61১- 61910 06 006 10601001গে 020220. 2 ০00০200 20 00০ 7621 0012005 17101) 1086 10960 00005190 00590511622 50206 12128610105 2130. 190861)621 105616 15 1050 006 22075551070 ০0৫ 0015 71001080165. ছোটখাট অসংগতি যা মারাত্মক নয় বা গভীর ছুঃখদায়ক নয়, তা নিঃসন্দেহেই হাস্যকর ; আবার জীবনের বড় বড় অসংগতি গভীর দুঃখদায়ক £:৪8৩এ5র উপকরণ-স্বরূপ। রবীন্দ্রনাথ কৌতৃকহাস্যের আলোচনা: প্রসঙ্গে এই অসংগতির কথা বলেছেন। তিনি দৃষ্াত্ত দিয়েছেন, “পথে চলিতে চলিতে যদি হঠাৎ দেখি একজন মান্য বুদ্ধ ব্যক্তি খেমটা নাচ নাচিতেছে, তবে সেটা প্রকৃতই অসংগত ঠেকে ; কারণ. তাহা! অনিবার্ নিয়মসঙ্গত নহে। আমরা বৃদ্ধের নিকট কিছুতেই এক্ূুপ আচরণ প্রত্যাশ'!

রি বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস

করি না, কারণ সে ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন লোক --সে ইচ্ছা করিয়া নাচিতেছে» ইচ্ছা করিলে না নাচিতে পারিত। .*. অন্যমনস্ক লেখক যদি তাঁহার চায়ের চামচ দোয্লাতের মধ্যে ডুবাইয়া চা খাইবার চেষ্টা করেন তবে সেটা কৌতুকের বিষয় বটে। অসংগতি যখন আমাদের মনের অনতিগভীর স্তরে আঘাত করে তখনই আমাদের কৌতকবোধ ভয়, গভীরতর স্তরে আঘাত করিলে তুঃখবোধ হয় |”

অসংগতি অনেক সময়েই হান্যরস উৎপাদন করে তাতে আর সন্দেহ কী? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যেটুকু গতানুগতিক নিয়মিত অভিজ্ঞতার বাইরে, আমাদের অভ্যাসের গণ্ডি-বহিভূতি যা কিছু আমরা দেখি-শুনি, তা বেদনাদায়ক না হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাসি জোগায় একটা অস্বাভাবিক রূপে ঢ্যাঙ বা দেড় হাত লঙ্গা পরিণত বয়স্ক বামন দেখলে কার না হাসি পায়? তেমনি রাস্তায় ঘা. ইংরেজী-ফরাসী-জার্মান ভাষা শুনে আমাদের হাসি পায় না বটে, কিন্তু বিকৃত ভাষা __ যেমন পূর্ববঙ্গীয় ভাষা, উড়ে খোট্টাই মিশ্রিত বাংলা, অথবা অন্ত কোনো জাতের বিরূত বাংল! গুনলে বাঙালী না হেসে থাকতে পারে না খোনা, তোংলা, ট্যারা লোকের মধ্যে যেটুকু অ-স্বাভাবিকতা৷ আছে, তা বোধ হয় অতিমাত্রায় পীড়াদায়ক নয় বলেই, মানুষের হাসি আনে তাই বাংল! সাহিত্যে “যত উড়ে মেড়ো৷ খোট্রা বাঙাল" আগ্ভিকাল থেকে হাসির উপকরণ জুগিয়ে এসেছে।

হার্বাট স্পেন্দর মূলতঃ এই অসংগতি জিনিসটিকেই একটু নতুন চমকপ্রদ কথায় ঘুরিয়ে বলে তাকেই হাশ্যরসের ' উপাদান বলে নির্দেশ করেছেন তিনি বলেছেন যে, আমরা তখনই শুধু হাসি, যখন একটা বৃহৎ অনুভূতি প্রত্যাশা ক'রে থাকি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব সামান্য একটা অম্গভৃতিতে গিয়ে পৌছুই। এক কথায়, অনুভূতির জগতে পর্বত যখন মৃষিক প্রসব করে তখন মানুষ না"হেসে পারে না।

অনুভূতিগত প্রত্যাশার অকালমৃত্যুতে মানুষের হাসি পায় নিশ্চয়ই, কিন্ত তাকেই হাম্তরসের একমাত্র উপাদান বলে নির্ণয় কর| চলে না। অবশ্য ম্পে্সরের মত কাণ্ট-প্রমুখ পণ্ডিতদের মতেরই প্রতিধ্বনি দার্শনিক হেগেলই প্রথম পূর্ববর্তী এইসব মতের সময় বিস্তৃতি দ্বারা হাস্তরসের এমন একটি

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

ব্যাখ্যা দেন, যা মোটামুটিভাবে হাস্যরসের যথার্থ স্বরূপটি প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে, এবং পরবর্তী পণ্ডিত সমালোচকেরা যা মূলতঃ গ্রহণ করেছেন। পূর্ববর্তী দার্শনিক পণ্ডিতদের মত আলোচনা ক'রে হেগেল এই সিদ্ধান্তে পৌছেছিলেন যে, কারুর প্রতি বিজ্রূপ বা তাচ্ছিল্যের ভাব থেকেই যে হাশ্যরস ২উৎপন্ন হয় এমন কথা বলা যায় না। কমেডিতে দর্শক যখন হাসে তখন সে হাসির চরিত্রটিকে লক্ষ্য করেই শুধু হাসে না, সেই চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গেই হাসে €71106 50960680015 18081) আ10) 006 20601: 10750680026 1010) )। অর্থাৎ অনেক সময়েই চরিত্রের সঙ্গে সে নিজেকে একাত্ম ক'রে ফেলে। রে হেগেল বলেছেন, £41752021816 £000 006 05017710 19 217 11)81)106, £21212115 2190 ০0122067906 02021016০01 1151196 5717921101 60 10 ০৮10 ০010:80106102; 2150 22061016101106 01061610100 05170 01 70466200535 100 521756. 06 101501700106 7132065%1.৮ (অনেকেরই মতে মানুষের মধ্যে হাসবার যে সহজাত আকাজ্জা আছে, কৌতুকরসবোধ বা 52196 10090: তারই স্বাভাবিক পরিণতি ।)সেজন্ঠ কার্লাইল, থ্যাকারে, পামার প্রমুখ আধুনিক লেখকেরা সকলেই এই বিষয়ে এক মত যে অপরের প্রতি অসুয়া, কোনোরূপ তিক্ততা, অপরকে খোঁচা দেওয়া বা আঘাত কর! এসব প্রক্কত হাম্তরসের উপাদান হতে পাঁরে না। শ্কুলরুচি লোকের কাছে এ-জাতীয় জিনিস খুব হাপির মনে হতে পারে বটে কিন্ত শিক্ষিত সুক্স্রুচি মনে এগুলে। ততটা হাসি আনে নাঁ। জন্যই কার্পাইল বলেন, [06 101000: 90101765 1000 20012 0010 000 10620. 07917 0020 0106 10921671625 [00 ০0166210190 7 15 55521021510 ... 1015 2. 5016 01 1175156 9010]1011, 25910115, ৪5 16 ৮216, 1100 001 2:020010109 5/186 15 ০০10৬৮ 05, 10116 50010111015 018৮5 00৬11) 1760 001 9:20০01015 1182 19 20০৮০ 85,10106 £010061 15 5081:061% 153 19120101019 01 1০2179:7200175 03৪1. 6১০ 15601; 02100879510 15 501] 12121 2100 ৪9 06250 06 £210109, 5011] 1701০ ৫0151. এবং থ্যাকারে বলেন, “৮ 11021215 100218 06 00০ 100100011500 চপ 15015665 5016 6০

7০ 0৫ 71011910000910 10880016 2009 1786 ৪. £:58:6 215101115 6০ 0

্‌ বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস 285115 রা 6০ 02817. 01 101585075, 21017 00 80072018665 00৩ %2100625 01 1210196] 06 090016 £04150 20006171100 2100. 5500178- €1)156 17 00611 12051021056, 20052100210 62815... 06 0০31 11000001115 01020 1101) 15 07500160 00008150036 10) 20600100655 210 10117010255. জন পামার তাঁর সেক্স-পীরীয় কমেডির আলোচনা প্রসঙ্গে দেখিয়েছেন ষে ঢ৪156৪ঠি জাতীয় চরিত্রের কার্যকলাপে কথায় আমরা যতই হাসি না কেন, তাদের আমরা মনে মনে পছন্দ করি, আমাদের সহানুভূতি থেকে তারা বঞ্চিত হয় না। অর্থাৎ এদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা হাসি, হাসি দিয়ে আমরা এদের আঘাত করি না ন্বালা সাহিত্যেও উত্কষ্ট হাশ্তরস যখনই পরিবেশিত হয়েছে, তখনই আমরা লেখকের সহানুভূতিশীল দরদী মনের পরিচয় পেয়েছি। ভৃষ্টাস্ত- স্বরূপ বহ্কিমচন্জের “কমলাকান্ত”, “সধবার একাদণী”র নিমে দত্ত প্রভৃতির নাম উল্লেথ কর! যেতে পারে | বন্ততঃ, আধুনিক কালে দার্শনিক, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, : সাহিত্য-সমালোচক, সকলেই এই মত পোষণ করেন যে, প্ররুত হাস্যরসের উপাদান খোঁচা, আঘাত ব! বিজ্রপ নয়, দরদ, ভালোবাসা, প্রীতির জীবনের অসংগতিগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ % বস্কিমচন্ের স্চ্ছ লুক এ-সত্য অনেকদিন আগেই ধর। পড়েছিল। তাই তিনি বিশেষভাবে হাস্যরস সম্বন্ধে আলোচনা না করলেও নানা সমালোচনা প্রসঙ্গে এ-বিষয়ে তার মতটি সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করেছেন। শ্বশ্বরচন্ত্র গুপ্ত সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন, “ব্যঙ্গ অনেক সময় বিদ্বেষপ্র্থত। ... ঈশ্বরগুপ্তের বাজে বিন্দুমাত্র বিদ্বেষ নাই ।” এবং হাশ্যরসিক ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বন্ধে লিখেছেন, “রহস্য পটুতায়, মনুষ্য চরিত্রের বহুদশিতায় __ লিপি চাতুর্যে, ইনি টেকঠাদ ঠাকুর ছুতোমের সমকক্ষ ... ইন্দ্রনাথ বাবু পরছু:খে কাতর, সুনীতির প্রতিপোষক, এবং স্থরুচির / বিরোধী নহেন ।” স্পষ্টই বোঝা যায়, বঙ্কিমচন্্র সাহিত্যে যে দুটি গুণ আবস্তিক বলে মনে করতেন, তা স্ুরুচি পরছুঃখকাতরতা বা ব্যাপক মানব-সহান্ভূতি হাস্যরসের ক্ষেত্রেও তিনি এই ছু”টি গুণ অত্যাবশ্যক বলে মনে করতেন। এ"বিশ্বাস যে তাঁর মনে কত দৃঢ় ছিল, তার নিজস্ব হাস্রসাত্মক রচন! “কমলাকাস্তে” তার জাজল্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস

আধুনিক কালের হাশ্তরসিকদের মধ্যে অন্যতম প্রধান লেখক অধ্যাপক স্টিফেন লীককৃও গভীর মানবসহান্ুভৃতি বা ব্যাপক দরদকে হাস্যরসের স্মপরিহার্ধ উপাদান বলে মনে করেন। হাঁন্তরসের সংজ্ঞ। দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, 40100011025 02 091557 23 006 10115015 5017621001180010 0: 116, 2100. 00০ 21:015010 23015535101 €13616016,5, 71766772087 0150 13%170787% এবং এই 117]গ কথাটির মধ্যেই হাস্তরসের সংজ্ঞার আসল কথাটি বা “5930105] 6161001) নিহিত আছে বলে তিনি মনে করেন। আরিস্টটলের উক্তি 90156 06£550 0: 01175655 2101) 0023 1206 112] 7212 উদ্ধৃত করে স্টিফেন লীকক বলেছেন যে» এই কথাটি দ্বারাই কৌতুকহাস্তের মূল তব্‌টি প্রচ্ছন্নভাবে বলা হয়ে গেছে। লীককের মতে, এই উক্তিটির তাৎপর্য অতি গভীর -- যা লীকক নিজে 11015 শব্দটির ছারা বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। |

হাস্যরসের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে হেগেল, কার্লাইল, থ্যাকারে, পামার বা বস্কিমচন্দ্রে মতের বিশেষ কোনো প্রভেদ নেই বস্তুতঃ, আধুনিক কালে খুব কম দার্শনিক বা সাহিত্য-সমালোচকই বার্গস-র এই কথায় সায় দেবেন ষে “10191051621 ৮৮6 218,595 0100 27 2৬০৮/2৫ 1171217601017 0 1700101- 1126০, 2180. 0015200217615 €0 ০0119০6 001 16151)9000:

তবে এ-কথাও মানা দরকার যে এইরকম গভীর দরদপূর্ণ দৃষ্টিতে জগৎ তার অসংগতি অসম্পূর্ণতাগুলিকে দেখে যিনি হাসতে এবং হাসাতে পারেন, “পরছু:খে কাতর, স্থনীতির প্রতিপোষক” সে জাতীয় অত্যুচ্চশ্রেণীর হাস্- রসিকগণের সংখ্যা জগতে মুষ্টিমেয় জগতের শ্রেষ্ঠ হাশ্যরসিক নিশ্চয় এরাই কিন্তু পৃথিবীতে মানবের দৈনন্দিন চলা-ফেরা! কথা-বার্তা দেখা-শোনায় এবং সাহিত্যশিল্লে এত যে হান্তরসের ক্রোত প্রবাহিত হয়ে চলেছে তার মধ্যে খুব সামান্যই এই স্তরের উচ্চশ্রেণীর হাস্যরস বলে গণ্য হতে পারে। ম্যাক্স, বীয়রবম তার উপাদেয় প্রবন্ধ [,218£1)66:-এ বলেছেন যে জগতের বেশির ভাগ কৌতুকহাস্যই উত্পন্ন হয় খোচা দিয়ে, এবং ধারা আমাদের উপরে ক্ষমতার আসনে বসে আছেন তাদের খোঁচা দিতে পারলেই মজাটা যেন হয় বেশি রাস্তবিকই ব্যাপক অর্থে হাস্যরস সকল প্রকার উপাদানই গ্রহণ আত্মসাৎ.

১০ বাংল! সাহিত্যে হাস্তরস

করে পূর্বেই বলেছি হাস্ঠরসের প্রক্কৃতিভেদ ভ্তরভেদ আছে এবং যেহেতু হাস্যরসাত্মক সাহিত্য জীবনকেই অনুকরণ করে জীবন থেকেই রস সংগ্রহ করে, সেহেতু মানবমনের সকলপ্রকার আবেগই এর অন্তর্গত হতে পারে স্থুতরাং হাস্যরস উৎপাদনের জন্ত হাস্তরসিক একদিকে যেমন খেয়াল-খুশি বা আবোল-তাবোলের সাহায্য নিতে পারেন, তেমনি বিজ্রপ-ব্যঙ্গের সাহাষ্য নিতেও তার বাধা নেই। তিনি কোনো জিনিস বাড়িয়ে বলেন, কিছু বা কমিয়েও বলতে পারেন। তার রচনা আদর্শবাদী হতে পারে, বান্তববাদী হতেই বা বাধা কি? যে-আবেগ, যে-মত, যে- স্থান কাল পাত্রেই হাস্যরসের ছোয়া লাগে, তাই উজ্জল, কোমল হয়ে আসে, তার অন্ধকার বা কঠিনতা কোথায় চলে যায় তার ঠিকানা পাওয়া যায় না।

_. তবুঃ খাটি এবং উচ্চন্তরের হাশ্ঠরস গভীর মানব-সহামুভূতি ছাড়া উৎপন্ন হতে পারে না, এ-কথা মানতেই হবে। উচ্চশিক্ষিত, স্ুসভ্য, সংস্কতিপরায়ণ মন ভিন্ন জাগতিক মানসিক অসংগতি-অসামঞ্জস্তের কৌতুকটি ঠিক ধরতে পারে কি না সন্দেহ জগৎ জীবনের মূলে একটি মৌলিক মজা আছে __ ষা উচ্চ শিক্ষা সংস্কৃতি সম্পন্ন মনেই শুধু উপলব্ধ হয়। অধ্যাপক পেরী (7.7 5 06) সম্বন্ধে বলেছেন, ** “7106 £:586550 0010205 1% 85 02010 ৬০]] 5910, “15100020100 11. 052 5090181] 01027...000 117 06 509121006 1200021 72150050026 10812, ৮7100 1555 01817 €0 212 10010001581 30116 25 065500051555 ০0021760 1 81000 200. 11150 1615 00012 0106 ০6101520৫9০ 11019616206 5211923 01 113 [0০1- ০১010 01061, 0000 200 02210 10 1015 2210)]5 011811- 129£6. 0০৪01 10 0015 011600102, 002.) 109.16-0010901005]% 16811265 00০ 21801021005 1)80816 1715 09510010. 02 015০ €20:55005] £100০, 8150 1১2 197781)9 02101 £:000 15001000016, 7210]5 202 62010912006 200 2100260060 £00100 02100151526 006 15865 0886 1385 1912090 11100 121০. জীবনের মূলেই ষে মন্ত তামাশা!!! কোথায় ব। “অযৃতন্য পুত্রাঃ”, আর কোথায় পঞ্চেক্দরিয়বন্ধ ক্ষীণজীবী মানুষ __ যে প্রতি পদে, কার্ধকল্লাপে এবং জীবনমৃত্যুতে পরিবেশ, কর্ম অদৃষ্টচক্রের দ্বারা আবদ্ধ

বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস ১১

তবু মান্থধ লড়াই করে চলেছে ডন কুইক্সোটের হাঁওয়া-কলের সঙ্গে লড়াইয়ের চেয়ে একি কম মজার ? এই মজাটা যিমি অনুভব করেন তিনিই তুড়ি মেরে বলতে পারেন “হেসে নাও, ছু' দিন বৈ নয়” মনের অন্তস্তলে মানুষ এই বিরাট অসংগতি সম্বন্ধে সচেতন বলেই, ছোটখাট অসংগতিতে সে প্রাণ খুলে হাসতে পারে ; এবং হাসাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা না ক'রে সে বলে, “এ সংসার রসের কুটি, খাই দাই আর মজা! লুটি”।

এই যে জীবনের মৌলিক অসংগতি, এর থেকে কোনো মানুষেরই রেহাই নেই। তাই যতই বেশি লোকের সঙ্গে আমরা মিশি, ততই জীবনের নানা অসংগতির মজ| বেশি করে অনুভব করতে পারি, ততই বেশি হাসতে পারি এবিষয়ে অধ্যাপক পেরীর উক্তি অন্রধাবনযোগ্য ;) 7006 70015 006 82,950018095 7100 00061 0201016, 0০ 20016 0172 ৮11] ৫০৬০1০2 60৫ 900121 00109021702 20 0209.01)0821)6 17606295815 601: 2 1920 52125 01 21000052771) 20 0119 102510 00100100125 01 1)0109 116, 8190 11026 15 10010178705 জ1) 212 10012 1110615 0 17061) 11 052 10125501706 ০0৫ 00]: 12110 ৬7 06105 0721 ড51)2]. 21016 11) 0০ 00910010810 06 001 7011802 0700£100,180£1)061 00555 ০৩50 11218 £:00 ০0: %81120. 10901012 212 0:098176 609£90061 11 91101) ৪. চ78% 0080 019611 1)01000171 15 10621051560 8180 00611 11801510181] ৫1621611069 212 10011711011260 25:1081 23 70095511016,"

--11256975 ০7 1)76772150 007260% 070. 77687190061 ?71867965.

পূর্বেই বলেছি, হাস্যরসের ক্ষেত্র পরিধি অতি ব্যাপক যদিও অস্ুয়াহীন দরদী মন নিয়ে জীবন জগতের অসংগতিগুলি দেখতে এবং দেখাতে পারলেই খাঁটি হাস্যরস উৎপন্ন হয়, তবু খোঁচা দিয়ে বা আঘাত দিয়েও ষে কিছুটা হাসি আনা যায়, তা' পৃষ্ঠে চপেটাঘাত শ্যালক সম্থোধন দ্বার! বন্ধুবান্ধবরাই অনেক সময় বুঝিয়ে দেন। খোঁচা বা আঘাত, অনুয়াপূর্ণ, বিদ্বেষসপ্তাত রুচিহীন হয়েও যে কখনো! হাসি উৎপন্ন না করে এমন নয়৷ উনবিংশ শতাব্দীর কবি তরজাওয়ালাদের রচনায় যেটুকু হাশ্তরস আছে, তা প্রায় দবই এই নিয়ন্তবের

১২ বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

রের সাহিত্যেও ব্যঙ্গ বিজ্রপ বা 5205 জাতীয় রচন! প্রচুর হাঁক জোগায়, তাতে সন্দেহ নেই তবুর্খাটি 580:5কে হাশ্যরসাত্মক রচষা বলে গণনা করা চলে না। ভপ্টেয়ার, আনাতোল ক্রস, বাশীর্জ, শ* প্রমুখ জগছ্িখ্যাত 5৪0:15-গণকে কেউ হাম্তরসিক লেখক বলে অভিহিত করেন না। কারণ 5866 বা বিদ্রপাত্মক রূপক রচনা বিদ্বেষপ্রস্থত না হয়ে পারে না, এবং এর আঘাতও অতি প্রচণ্ড তবে উচ্চশ্রেণীর 580:6-এ ষে-বিদ্বেষ প্রকাশ পায়, এবং যে-আঘাত দেওয়া হয়, তা কোনে! ব্যক্তির প্রতি নয় ; কোনো প্রথা, আচার, মতবাদ, সমাজ বা আইন-কান্ধনকফে লক্ষ্য করেই উৎকৃষ্ট বিন্রপাত্মক রচনার স্থষ্টি হয়। বিজ্রপ যেখানে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা গালাগালির স্তরে নেমে আসে, সেখানে আর তা হাসির রচনা বলে গণ্য হয় না। বাংলা সাহিত্যে এ-জাতীয় রচনারও অভাব নেই, যার মধ্যে ঈর্ষা পরশ্রীকাতরতা এতই প্রকট যে তা যেন _

“... চিম্টি কাটে ঘাড়ে খ্যাংরা মতন আঙুল দিয়ে খোচায় পাজর হাড়ে |”

অবশ্য ভালো ব্যঙ্গ ব1 বিদ্রপাত্মক রচনা পড়ে আমরা হাসি, অনেক সময় খুবই হাসি, কিন্তু তাকে প্রকৃত হাশ্যরসের পর্যায়ে ফেলা চলে না। ব্যঙ্গ-বিজ্রপের সার্থক রচয়িতা হাস্যরসের সাহায্য নেন বটে, কিন্তু কখনো আঘাত করতে বিরত হন না। যেন শিখত্তীকে সন্মুথে রেখে অজুনের বাণ নিক্ষেপ হাসির অন্তরালে আঘাতটি প্রচ্ছন্ন থাকে বলে.সহসা টের পাওয়া যায় না, কী প্রচণ্ড এআঘাত | তাই [075810 1770স বলেছেন, “98616 9০:০৪ 39 /০819015 £010 0176 1001000002505- 26 076 18061506 151015 ৪907:2 19001525185 108106 10) 16 915/85.৮ মেরেডিথ কমেডির হাসি বা সাহিত্যের কৌতুক-হাস্তকে 710079515091” এবং “০৫ মাঘছ৪116 70116519655” বলে বর্ণনা ক'রে তার সঙ্গে তুলনায় বিজ্রপাত্মক হাসির উল্লেখ 'ক”রে লিখেছেন, 477155150515667 026 58615 15 2. 010৯7 10) 0১6 08০ 90 006 69০০ 441 17779508077 0017890%.” অবশ্য ব্যঙ্গ অহুয়াহীন সহান্ভূতিময় হলে উচ্চশ্রেণীর হাস্যরস উৎপন্ন হতে পারে, কিন্তু সে বঙ্গ

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস ১৩

40092150181” ( নৈব্যক্তিক ) অথবা এমন ব্যাপক হওয়! দরকার যে স্বয়ং লেখকও সেই ব্যঙ্গের পাত্র বলে গণ্য হতে পারেন।

শ্যাটায়ার? বা বিজ্রপাত্মক রচনায় কৌতুক ভিন্ন অন্ত যে বস্তটির সাহাষ্য লেখকেরা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করেন, তা হচ্ছে | এই কথাটির বাংল! প্রতিশব্ধ পাওয়া মুস্কিল, এবং ইংরেজীতেও সাহিত্য-সমালোচনার ক্ষেত্রে এই শব্দটির ব্যবহার খুব বেশিদিন হ*ল গুরু হয় নি। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ইংলণ্ডে সাহিত্যিকরা এর বহুল বাবহার , শ্রু করেন) [0961219016 17090565 বিষয়ে অগ্রগণ্য এর পর অষ্টাদশ শতাব্ধীর শেষের দিকে ৮০০ এবং £১0$592. এই শব্দটির যথার্থ সংজ্ঞ। নিরূপণের চেষ্টা করেন। আযাডিসন্‌ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, কোনে! লেখক যখন বিভিন্ন বিচিত্র জাগতিক বিষয় বস্তর মধ্যে অভাবনীয় বিস্ময়কর, অথচ ঝুদ্ধির আনন্দবিধায়ক কোনো সাদৃশ্য আবিষ্কার করেন, তখনই অঃ6-এর সৃষ্টি হয়। এবপ ক্ষেত্রে যখন সাদৃশ্যের পরিবর্তে বৈপরীত্য দেখানো! হয়, তার মতে তখনও ₹:-এর উদ্ভব ঘটে দৃষ্ান্তস্বক্ূপ তিনি কবিতার এই পংক্তিটি উদ্ধত' করেছেন, “115 100150:255 095012) 15 23 ড/15166 25 9180 --- ৪10 ৪5 ০010."

আধুনিক কালে মনস্তাত্বিক সিগখুণ্ড জ্রয়েড, 1৮ নিয়ে বিস্তৃতভাবে আলোচনা! করেছেন 788 2120 145 11612507 £০0 796 [77800785060 | ৬৮ যে কমিকেরই একটা প্রকারভেদ, পূর্ববর্তী লেখকদের মত উদ্ধৃত ক"রে ফ্রয়েড ত1 দেখিয়েছেন তাতে বোঝা যায় যে, আডিসন »1-এর যে-সংজ্ঞ। দিয়েছিলেন, পরবর্তী পণ্ডিতদের মত তার থেকে খুব- দূরবর্তী নয়। তবে বিষয়টিকে এরা আরো বিশদ করে ব্যাখ্যা করেছেন 1. ম50156 বলেছেন, “710০ 10002120 71101) 01:000069 61)০ 0012710 ০0100:9.56 15 10 ,..৬৬1০ 15 ৪. 21289 12051006106 ...৬/10 15300101176 006 ৪. 1:22 1919 01 10295.” 168 780] [২1০17021 রসিকতা ক'রে বলেছেন, “৬৬115 006 015501520 0101950 170 01716652৬০1: ০০১12.” এবং "01093 ড1501791: এর উপর রং ফলিয়ে বলেছেন, “75 11055 1650 60 91716 00০১০ ০030195 13050 10021011956 0106 7:6120565 12056 6০

১৪. বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস 981508890.” | 50152 অবশ্য বলেছেন যে এটাই জঃ৮-এর একমাত্র সংজ্ঞা নয়। তাঁর মতে আভ্যন্তরীণ বস্ত অথবা অন্ত কোনোরূপে সম্পকিত নয়, এরূপ একাধিক ভাব ব! ধারণার মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি কোনো সম্বন্ধ স্থাপন করা বা একীভূত করাই উইট্‌। 15০০: এ-কথাও বলেছেন যে এরূপ অনেক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য নয়, বৈসাদৃশ্ঠটাই প্রধান হয়ে ওঠে কিন্ত রিখটারের দ্বেখয়। সংজ্ঞার সজে ৬15০৪.-এর বক্তব্যের বড় বেশি প্রভেদ নেই। উইটু সম্বন্ধে অন্যান্ত লেখকেরা “56 50100586 10298+, 4'561096 11 10159510567, 50106851012 2150. ০128100555"" প্রভৃতি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এবং এর প্রত্যেকটিই কোনো-না-কোনো! দ্দিক থেকে ষরার্থ। রিখটার আরো বলেছেন, 13:5৮:65 210156 15 60০ 0০95 8100. $01 ০: ঘ/2০” য1 সেক্সপীয়রের স্ববিখ্যাত উক্তিরই প্রতিধ্বনি £ ১০০1065৬165 25 00০ 500] ০01 1, 4৯180 0201070510655 [012 11701052100. 00৮5 8::0 11010151)08. ---730778166, 4০0. 11, 90616 2 আর 15০16: বিষয়টিকে আরো প্রাঞ্জল করে দিতে গিয়ে বলেছেন যে, ৬৬10 100050 01762100 501060151175 10100618150 001)068160.” ক্রয়ে, পূর্ববর্তী মনীষীদের এইসব উক্তির মাথার্থ্য মেনে নিয়ে মনস্তাত্বিক দিক থেকে উইট্‌ বস্তুটির উদ্ভব সার্কত! বিচার করেছেন। কিন্তু আমাদের সে দুরূহ বিষয়ে অগ্রসর হবার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন প্রকারের *%/+৮-এর বহু দৃষ্টান্ত ক্রয়েড উদ্ধত করেছেন এবং ০০153০ 100:-এর সঙ্গে এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন. সে-সব ব্যাখ্যা অথব। ৮০০৪ 4£৯৭41507-এর মতো 55 10 এবং ঢ815 আ1এর সুক্ষ সীমারেখা নির্ণয়ের চেষ্টা আমাদের পক্ষে নিশ্রয়োজন। তবে %?£ -এর টেক্নিক্‌ বা /1৮-রচনার বিবিধ কৌশলের যে-সংক্ষিগুসার ফ্রয়েভ. দিয়েছেন, সেটি প্রণিধানযোঙ্গয £ এ) 00770617326102 €৪) ৬10 00169. ০0৭10100900. £€09- ৬৬০ 05001508610.

বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস ১৫

]].7006 20011556102 06 606 92106 1+18021791 (০) 1102 1১016 2780 010০ 1921: (৫) (57756 0:561. (০) 9115176 12909019080101, (6) 00106 58006 01905 01590. 11) 0১917 08]] 0: 001001- 1255 56156. 11110090015 14152171175 (6) 1727005 270. ৬2102] 91101909106. (9) 7150701)011681 2150 ০1:08] 141০210106. (01) 77706 1009012 118.211)6 (0125 0 9:05), (0) 40002500033 141০8101106. (0) 1002016 11521701186 ৮710) 4৯১11051012. উপরের তালিকা থেকেও এই কথাই বোঝ যায় যে,(৮10 জিনিসটি আসলে শব্দ এবং শব্দার্থ নিয়ে খেলা (7185:01 70050)61%) ছাড়া আর কিছুই নয়। এবং এই খেলা যে বিগ্তাবুদ্ধি-সমুজ্জল মন দ্বারাই সম্ভব এ-ও স্বতঃসিদ্ধ কথা কাজেই, %1৮ যেমন বুদ্ধির থেকে উৎসারিত, তেমনি এর আবেদনও প্রধানতঃ বুদ্ধির কাছে, হৃদয়ের কাছে নয় যেরূপ ধরণের বাক্চাতুর্ধ আবেগকে আন্দোলিত করার পরিবর্তে শিক্ষিত, মাজিত, সংস্কৃতিপরায়ণ মনে বুদ্ধির আনন্দ- বিধান করে তাকেই আমরা আঃ বলে অভিহিত করতে পারি। ইংরেজিতে 1৮ শব্টির মূলগত অর্থ বুদ্ধি। ৬1 স্ষ্িতে বা এর বসগ্রহণে বুদ্ধিরই প্রাধান্ঠ বলে হাস্যরস যেমন সর্বসাধারণের উপভোগ্য, 1 তা হতে পারে না। সাধারণ অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত জনগণের কাছে আঃ৮এর পরিবেশন নিরর্থক বলে প্রকৃত শিক্ষিত সংস্কৃতিবান্‌ গড়ে না ওঠা পর্যস্ত ্৮আশ্রিত হাস্যরসের বড় বেশি বিকাশ সম্ভব নয়। )ইজন্যই আমরা দেখতে পাই, ভারতচন্দ্রের পুর পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে ₹*££স্র্ব সাক্ষাৎ পাওয়া দুক্ষর। অপরপক্ষে আধুনিক যুগে অ:€-প্রধান হাস্যরস অনেকে হৃষ্টি করেছেন, এমন কি কোনে কোনো লেখকের রচনারীতিই *1৮-এর মিশ্রণে উপভোগ্য হয়েছে

১৬ বাংলা সাহিত্যে হাশ্তরস

তবে 6 এবং 158708: বা কৌতুকহাস্তের স্পষ্ট সীমারেখা! টানা বড়ই মুক্ষিল। সাহিত্যে এবং শিক্ষিত বুদ্ধিমান সংস্কৃতিবান্‌ লোকের কথাবার্তায় আঃ এমনভাবে কৌতুকহান্তের সঙ্গে মিশে থাকে যে যমজ ভাইয়ের মত এদের দুটিকে আলাদা করে বেছে নেওয়া অনেক সময় খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়ায় তবু এ-কথাটা৷ মনে রাখা দরকার যে, আঃ প্রধানতঃ বুদ্ধিগ্রাহ্য এবং কৌতুকহাস্ত বা নিছক 1790007 মুখ্যতঃ হৃদয়গ্রাহ। ৬1৮ অনেক সময়ই কথার মারপ্যাচে প্রকাশিত হয়» যাকে আমরা বলি বাক্চাতুর্য। কিন্ত 0800001 ব| কৌতুকহাস্ শুধু চতুর কথায় সীমাবদ্ধ নয়। তা পরিস্থিতি» ঘটনা, চরিত্র, বাক্যালাপ ইত্যাদি নান! জাতীয় বিষয়কে অবলম্বন ক”রে গড়ে উঠতে পাৰে | ৬৬1৮ এবং 1020001 এর পার্থক্য নিরূপণ করতে গিয়ে একজন অতি সংক্ষেপে সুন্দরভাবে বলেছেন, “ড/$5 75 ০৫ 00021001170 21528010106, 11002]1120009], 91091 210 £25 51011100001 15 0 0172 9০905 2 19056, 7009280১ 20006101781, 019০6160] 200 101]5. অর্থাৎ হচ্ছে মনের ;) তা পরিচ্ছন্ন» চমতকার, বুদ্ধিসঞ্জাত, তীক্ষু, খুশিতে ভরা এবং 18700 হচ্ছেশরীরের ; তা! শিথিল, প্রশস্ত, আবেগপ্রবণ» প্রফুল্ল এবং হাস্তময় এই কথারই যেন প্রতিধ্বনি রবীন্দ্রনাথের উক্তিতে পাই» “ইহা! যেন অনেকটা পরিমাণে শারীরিক; কেবল স্নায়ুর উত্তেজনা মাত্র ইহার সহিত আমাদের সৌন্দর্যবোধ, বুদ্ধিবৃত্তি, এমন কি স্বার্থবোধেরও যোগ নাই *** সুখে আমরা ম্মিতহান্য করি, কৌতুকে আমরা উচ্হান্ত হাসিয়! উঠি।৮ এই উচ্চহান্তেই হাস্তরসের প্রকৃত পরিচয় 9805 বা ৮716 জাতীয় বুদ্ধিগ্রাহা হাসি ন্মিতহান্তয মাত্র রি কৌতুকহান্ত অনুভূতি বা হৃদয়কে নত করে বলে হাসি প্রাণখোলা হাসি। আর প্রাণখোলা হাসিরই অপর নাম উচ্চহাস্য। বুদ্ধির ক্ষেত্রে চমক্‌ লাগিয়ে যে হাঁসি উৎপন্ন হয়, স্বভাবত:ই তা৷ যৃদ্হান্ত, স্মিতহাস্ত কিন্তু এই ছুই জাতের হাসির মাঝখানে কোনে স্পষ্ট বিভেদরেখ! টানা বড় সহজ কথা নয়। উৎকৃষ্ট কৌতুকহাস্, যা উচ্চহাস্তেই প্রকাশিত হওয়া স্বাভাবিক, তা অনেক সময় ন্মিতহাস্যেই প্রকাশিত হয়। আবার এর বিপরীত ঘটনাও

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস ১.

বিরল নয়। ইংরেজ বা! পাশ্চাত্য দেশীয় লেখকেরা কৌতুক-হাস্তের আলোচনা প্রসঙ্গে 18511510061 শব্ঘটিই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই 1810£1)661 যে অনেক সময় 50৫116-এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, ন্মিতহাস্ দ্বারা যে কখনো কখনে৷ আমরা উচ্চহাস্যই প্রকাশ করি, এ-বিষয়ে তাঁরা অনবহিত নন। /518151100100186 বলেছেন, «7000001 10) 010০ 5256 32156 01 06 ৮০1৫ 15 1170290 2001091711862 2100. 5020712116185152 10 10106 0১০ 10250 191)56. 011:251901596 1) 5100116 2180 18105190671 2150 110102625 610০ 10050 50010211017 0:৫6 21000610185 001260660 101) 00০ ডি (00006 110109625 €0০ 20010107 0৫ 1081) 90 2.3 €০ 21১0281 1815615 0০ 001 56152 02 17010700721.

্রকুতই, হাস্যরসের উপাদানরূপে ব্যঙ্গ, বিভ্রপ, ঠা প্রভৃতি বিভিন্ন বিচিত্র জিনিসের সমাবেশ ঘটে ব'লেই, নানা জাতের হাসি উৎপন্ন হয়) তা ছাড়া সব মানুষ একরকম হাসে না বয়স্ক বা প্রবীণ লোক এবং জন্মানিত, উচ্চসংস্কৃতি- বান্‌ বাঁ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি উচ্চহাস্ত খুব কমই করেন। ম্যাক্স বীয়রবম তার [.2061)061 প্রবন্ধে লিখেছেন, “া 866০: 2 00821952068] 06 180617061. 40168501585 [409 50. [0 00106 01 0806 ] 10852 002121% 5001120. "৬265 %5815 ৪20,» 62 52915 920, ] 5190010119০ 19051960, 210. 108৮০ 0:09155590 00 ৮০০৭ 61১20 [1990 0)212]5 5001160 ...111)616 15 10 01015 10 18100610061, 01066 15 [0001 0:10 10) 3221165, 12061902119 00 10950905 5011:20001, 90)1165 £16 60৮2] 06100900106 01101015100.

আমাদের দেশের প্রাচীন প্রাজ্ঞরাও ধীর এবং বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে উচ্চহাস্ত বেমানান বলে মনে করতেন তারা অবশ্য শ্মিতহাস্য আর উচ্চহাস্থ, হাসিকে শুধুমাত্র এই ছুইভাগে বিভক্ত করেই সন্তষ্ট হন্নি। “সঙ্গীত সর্বস্বপকার জগদ্ধর ( পঞ্চদশ শতাব্দী ) ছ+ রকম হাসির উল্লেখ করেছেন,

“শ্মিতং হসিতং চৈব বিহসিতং সাহসিতম্‌। ভবেত প্রহসিতং চাপি তথাহতিহসিতং ভবেৎ। ষড.ভাবসংশ্রিতং হাস্যমেবং ষড.বিধমুচ্যাতে ॥”

১৮ : বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

এবং তিনি বলেছেন যে, শ্্রীনীচবালমূর্াদি বিষয়ো হাস্ত ইস্তাতে | প্রহাসশ্চাতিহাসশ্চ ধীরাণাং নৈব দৃশ্ঠতে স্মিতং বিহসিতং চৈষাং প্রবলেঘপি হেতুষু। বিপর্যাসেন বৈষম্যং নাটকাঁদৌ বিশেষতঃ শ্মিতং হসিতং চাপি বিশিষ্টানাং প্রকীতিতাম্‌। মধ্যমানাং বিহাসশ্চাবহাশ্চৈব দৃশ্ততে প্রহাসোহপ্যতিহাসশ্চ মন্দানামিহ জায়তে বিরুদ্ধৈশ্েটিতৈন্তৈন্তৈবিকৃতরূপভূষণৈঃ ॥৮ অর্থাৎ নাটকাদিতে স্ত্রীনীচবালমূর্খাদি বিষয়েই হাসি কাম্য। ধীর চরিত্রের ক্ষেত্রে প্রহাস বা অতিহাস কখনোই দেখানে! উচিত নয়। হাঁসবার খুব প্রবল কারণ উপস্থিত হলেও এরা অতিমূদ্হান্ত মাত্র করতে পারেন। মধ্যম চরিত্রগুলি আর একটু বেশি হাসতে পারে, তবে অধম চরিত্রপ্তলির খুব প্রাণ খুলে হাসতে বাধা নেই। খালি নাটকের পাত্রপাত্রীদের ক্ষেত্রে নয়, হাসি জিনিসটাই যে একটু নীচস্তরের, এবং প্রবীণ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের অর্থাৎ ভারিক্কি লোকদের জন্য নয় এ-বিষয়ে প্রাচীনেরা৷ খুবই অবহিত ছিলেন। পাশ্চান্ত্য পণ্ডিতদের মধ্যে প্লেটো এবং আরিস্টটল্‌ হাস্যরস সম্বন্ধে নামমাত্র আলোচনা করেছেন। এতেই বিষয়টি সম্বন্ধে তাদের কিছুটা তাচ্ছিল্য প্রকাশ পেয়েছে ।* আমাদের গ্রাচীন পঙ্ডিতেরা হাস্তকে কি চোখে দেখতেন তারও কিছু পরিচয় উল্লেখ কর! যেতে পারে। “সঙ্গীতরাজ”-প্রণেতা কুম্তকর্ণ (পঞ্চদশ শতাবী ) লিখেছেন : “বালকাদিবচোবেষবৈষম্যে জনিতা হি যাঁ। চেতসো! বিকৃতি: স্বল্লা সহাসঃ কথিতঃ খলু॥” তিনি আরও বলেছেন : “দীর্ধঘত্বরহিতো হাস্তঃ” | বালকাদির বাক্য বা বেশ- * একথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আরিস্টট ল্‌ ০০:০৩৭য সন্বন্ধে য৷ লিখেছিলেন, ত| পাওয়া

যায়নি কাজেই হান্যরস সম্বন্ধে কতটা! এবং কিরাপ আলোচনা তিনি করেছিলেন, ত| সঠিকভাষে জানা এখন আর সম্ভব নয়।

বাংলা সাহিত্যে হাস্তরস ' ১৯

ভূষার বৈষম্য হেতু চেতনার যে ্বপ্প-বিকার ঘটে, তাই হাসি এবং তা দীর্ঘ হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। সেই জন্য সংস্কৃতে হাস্যরস অন্যতম রস হিসেবে স্বীরূতি পেয়েছে বটে, কিন্তু কোনো! মর্যাদা লাভ করেনি বস্তরতঃ, হাস্যরসের আলোচনায় আলংকারিকেরা স্থান, সময় চিন্তার অপব্যয় করেন নি বল্লেই হয়; রসের তালিকার মধ্যে হাস্তরসের উল্লেখমাত্রই তারা যথেষ্ট বিবেচন| করেছেন। এমন কি নাট্যকাব্য ভিন্ন অন্ত কাব্যে রসের ব্যবহারের কথা তারা একেবারেই বলেন নি; আর নাটকেও», কি ভাবে কোথায় কে লোক হাসাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে হান্তরসকে গণ্ডিদ্ধ করে রেখেছেন। অবশ্য নাট্যশান্ত্রকারেরা প্রহসনের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন, কিন্ত

হাস্যরসপ্রধান এই শ্রেণীর নাটকের পাত্র-পাত্রী ধরণ-ধারণ সবই নির্দিষ্ট করে দিতে এরা ভোলেন নি। “শরূপক”-কার ধনঞ্জয় দশ প্রকার নাট্যরূপকের নাম করেছেন যথা, -_ নাটক, প্রকরণ, ভাগ, প্রহসন, ডিম, ব্যায়োগ, সমবকার, বীন্ধী, অঙ্ক এবং ইহামূগ। সংস্কৃত যুগের পণ্তিত মনীষীরা সুক্ষ বিশ্লেষণে আনন্দ পেতেন; তাই তারা প্রহসনকে আবার তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন -_ শুদ্ধ, বিকৃত বা সংকীর্ণ, এবং উভয়ের মিশ্রণজাত সংকর এই ত্রিবিধ প্রহসনে কি কি জাতীয় চরিত্র হাসি যোগাবে, ধনঞ্জয় তা স্পট কবে বলে দিয়েছেন।

“তদ্বৎ প্রহসনং ত্রেধা শুদ্ধবৈকৃতসংকরৈঃ

পাথগ্ডিবিপ্রপ্রভৃতি চেটচেটাবিটাকুলম্‌

চেষ্টিতং বেষভাষাভিঃ শুদ্ধং হাশ্তবৃচোগ্বিতম্‌

কামুকাদি বচোবেষেঃ ষণ্ঠকঞ্চকি তাপ্সৈঃ

বিকৃতং সংকরাদ্ীত্যা সংকীর্ণং ধূর্তসংকুলম্‌।

রসস্ত ভূয়সা কার্য; ষভিধো হাস্য এব তু দেখ! যাচ্ছে, নীচচরিত্রের বেষভাষ! এবং হাস্তময় সংলাপ দ্বারাই মাত্র প্রহসন তৈরি হতে পারতো অস্তিত্ব স্বীকৃত হলেও যে কয় প্রকার নাট্যর্ূপকের সন্ধান প্রাচীন সংস্কত সাহিত্যে মেলেনা অথবা! খুবই কম মেলে, প্রহসনও তার মধ্যে একটি কার্যত; সংস্কৃত নাটকে বিদূষকই ছিলেন একমাত্র চরিত্র, যিনি কিছু কিছু রসিকতা করবার অধিকারী, এবং তিনিও কেবলমাত্র

২০ ' বাংল! সাহিত্যে হাশ্যরস

সেই সকল নাটকেই অবতীর্ণ হতে পারতেন, যে-সব নাটকের নায়ক মরজগতের মা£ষ রাজা, দেবতা নন “৬101058109 19 £010130 0215 112 026 10200005 00100815 0৫ 0110065. ৬/17615651 0106 10610 15 ৪. [00105] 1005, 17150010108] 01 08016101581, 076 ৬10058159. 21006813 0006 5088০. --1070710 2) 19070510716 14466706276, ২. ৬. ]881:051। নাটকে অবতীর্ণ হয়ে তিনি যে রূপে দেখা! দিতেন সেটি একটি আন্ত ভণড়ের মুঠি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর্থার ব্যারিডেল কীখ, বিদুষকের এপ বর্ণন! দিয়েছেন: .. 1010:005 81116 10. 01255 2100 06159- ৮1001, [6 19 2, 10195118161) 0৮21) 1১210-1১22020) ৮10) :০01০০৮ 1175 06600 810 160. 25০5, ছা1)0 10021005 17170)5916 11010710905 70৮ 1215 9111 ০1780] 17 0091010 21501015 £16০0. 101 00 8:80 1259105 0৫ ৫৮৪: 1000. এই অপরূপ বাক্তিটি “6165 60 10106] 25৫ €৪08165 €()8£1709: ),- এটাই তার চরিত্রের বড় বৈশিষ্টা তখনকার দ্রিনে খাওয়ার কথাই মজা জমাবার প্রধান উপাষ ছিল, নাটকের বিষস্তক- গুলিতেও এর কিছু কিছু পরিচয আচে "মার, এই বিষ্বন্তক -- বসবৈচিত্র্য (2116) আনবার জঙন্ত নাটাশাস্্কারেরা যার প্রযোজন স্বীকার করেছিলেন -_ তা ঠিক কোথাষ, অর্থাৎ নাটকের কোন্‌ জাধগাম বসাতে হবে, সে-সন্বন্ষেও ল্পষ্ট নির্দেশ দিতে তারা ভোলেন নি।

এই ক্ষুদ্র “বিষস্তক”্ই বলতে গেলে সংস্কৃত সাহিত্যে হাস্যরসের একমাত্র 'আশ্রয়। এক বিদূষক সর্বপ্রাবী বীর, করুণ ও.শঙ্গার রসের মধ্যে কোনে রকমে হাস্যরসের পতাকাটি ধরে দাড়িয়ে আছে সে জন্ত সংস্কত সাহিতো পুরোপুরি হান্যরসাত্মক কোনো রচন! নেই বল্লেই হয। হাসির লেখ! বা হাসির লেখক বল্পে আজ আমরা যা বুঝি, সেরূপ জিনিসকে প্রাচীন পণ্ডিতর৷ প্রঅয় দেন নি। তারা হান্তরসটাকে চাট্ুনি-র মত মনে করতেন। পুরোপুরি চাটনি দিয়ে থাওয়ার কথা যেমন ভাবা যায় না, তেমনি পুরোপুরি হাসির রচনার কথাও তারা ভাবতে পারতেন না। ভরত তার নাট্যশান্ত্রে রসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, “রস ইতি কঃ পদার্থ: ? অত্র উচ্যাতে ; আস্বাগ্যত্বাৎ | কথম্‌ আম্বাছ্যো রস: ? অত্র উচ্যতে যথা হি নানাব্যগ্রনসংস্কৃতম্‌ অন্নম্‌ তৃপ্তীনা

বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস ২১

রসান্‌ আস্থাদয়স্তি স্বমনসঃ পুরুষাঃ হর্যাদিন্শ্চাপি অধিগচ্ছস্তি তথ! নানাভাব- অভিনয়ব্যঞ্জিতান্‌ বাগ-অঙ্গোসত্বোপেতান্‌ স্থায়ী ভাবান্‌ আম্বাদয়স্তি জুমনস; প্রেক্ষকারঃ ।”

কেবল সংস্কৃতে নয়, প্রাচীন-সাহিত্য মাত্রেই হাস্তরসের সম্বন্ধে কিছুটা অবজ্ঞার ভাব লক্ষ্য করা যায়। এইজন্য মেরেডিথ স্পষ্টই স্বীকার করেছেন, “0017605, ৮৮০ 10252 €০0 2800010, ৮02:5 10261 0186 ০06 006 12005 10017005001 00০ 70525.

প্রকৃতই অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালের পূর্বে সাহিত্যে হান্তরস তার প্রকৃত মর্যাদা লাভ করেনি এর ছু*টি কারণ থাকতে পারে প্রথমত হাশ্যরদিককে উপযুক্তর্ূপে তাঁর শিল্প পরিবেশন করতে হলে এমন এক শ্রেণীর দর্শক বা পাঠকের প্রয়োজন ধারা রুচি, রসবোধ সহৃদয়তায় সভ্যতার একটা নির্দিষ্ট স্তরে উন্নত হয়েছেন বর্বরজনের কাছে হাস্যরস পরিবেশনের কোনো! সার্থকত। নেই মেরেডিথ, ঠিকই বলেছেন, “4 ৪০০1০ 01 ০0৫101৮8620 10001) 81)0 ৮৮020721) 15 160811:50, ড021:211 10625 216 00:20 210 [9:06000175 00010100180 156 (00০ ০01010 00980) 17085 102 90001160 ৬৮10) 00800012180 210. 20101621056. 01)6 59001-0210211510 01 10212] £190% ০01007111010195, 2100 16521191) 60006101381] 7011095 16196] [0.৮ মানবসভ্যতার অগ্রগতি যে ক্রমশই হান্তরসের উপযোগী মনৌ- ভাব রুচি তৈরি করে চলেছে ইতিহাসের প্রতি লক্ষ্য করলেই তা প্রতীয়মান হয় বিবর্তনের পথ ধরে যতই পিছনের দিকে চলা যায়, ততই হাসির অভাধ চোখে পড়ে পশুপাখী সরীহ্প হাসে না। বনমানষ হয়তো একটু আধটু হাসে, অসভ্য, আদিম, বর্বর জাতিরা বোধহয় অপেক্ষাকৃত কমই ভাসে কেননা, যে ব্যাপক বহুমুখী দৃষ্টি দিয়ে জীবনকে বিচিত্ররূপে দেখলে হাসির উপাদান চোখে পড়ে, সভ্যতাহীন মানুষের জীবনে দৃষ্টির সে ব্যাপকতা আমরা আশা করতে পারি না। লীকক্‌ বলেছেন যে, আমেরিকার রেড. ইত্ডিয়ান্‌ জাতি হাসতে জানে না! বললেই হয়; এবং এও সকলেই লক্ষ্য করেছেন যে, যত দ্দিন যাচ্ছে এবং সভ্যত। সংস্কৃতির উন্নতি হচ্ছে, ততই হাস্যরসের চাহিদা! এবং উত্কুষ্ট হাস্যরসিকের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

২২ বাংল! সাহিত্যে হাস্যরস

দ্বিতীয় কারণ এই হতে পারে যে, মানবজীবনে হাসির প্রকৃত প্রয়োজন, তাৎপর্য গুরুত্ব প্রাচীন পণ্ডিতেরা পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি