হস্ত

বহুত

ঠা 5০0৮] 91791] 13627 12171585 )

সেলমা লাগর্লকফ

অনুবাদক শ্ীসজনীকান্ত দাস

ঈষ্টীর্ণ পাবলিশাস” সি্ডিকেট লিঃ ৮সি রমানাথ মজুমদার গ্রাট, কলিকাতা

প্রকাশক শ্রীজিতেন্দ্রনাথ মুখোপাধায়, বি, ৮সি রমানাথ মজুমদার স্টীট, কলিকাত!

দাম ছুই টক;

ভা ১৩৫৬

মুদ্রাকর শ্রীপ্রভাতচন্দ্র রায় শ্রীগীরাঙ্গ প্রেস চিস্তামণি দাস লেন, কলিকাতা

ভূমিকা

“সাধারণ বাঙালী পাঠকের কাছে মূল লেখিকা মেল্মা লাগর্লফ (১০118 1:01161) সম্বন্ধে কিছু বল! প্রয়োজন

সেল্মা লাগর্লফ ১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর পৃখিবী- বিখ্যাত ইন। কিন্তু তৎপূর্বেই তাহার স্বদেশ স্থইডেনে এবং ইউরোপের কণ্টিনেন্টে, ইংলগডে আমেরিকায় “ফোটোগ্রাফিক বাস্তবতা" রম কল্পনাশ্রিত আদর্শবাদের সংমিশ্রণে রচিত এক ধরনের বিচিত্র কথা-মাভিতোব অষ্ট। হিসাবে তিনি অসাধারণ খ্যাতি অজ্জন করিয়াছিলেন সম্ভবত পুরষ্কবারদাতা আলফেড নোবেলের স্বদেশবাসিনী বলির তীভার এই সম্মাণিত পুরক্কার লাভে বিলম্ব ঘটিয়াছিল। পুরষ্কারে প্রদত্ত মেডেলে তাহার পুরস্কার-প্রাপ্তির কারণ সম্বন্ধে এই কয়টি কথ! খোদিত ছিল--

1176 1026 01 1909 105 10601) 81160:

[850101, 9617778) 19077 16058 : 40668015601 1110 701)16 10081150), 1170 9160111) 01 :100705 77)0 [10 51011110101 01171111100 01818010101 0010 407158,৮

অর্থাং, ১৯০৯ হ্ীবের পুরদ্কার দেওয়া হইল :

সেল্ম] লাগরলফকে, জন্ম ১৮৫৮ : তাহার রচনার বিশেন€-উচ্চ আদশবাদ, শা, সম্পদ আত্মিক গুণের জন্ 1”

বস্তুত এই তিনটি গুণেই মেল্মা লাগর্লফ অন্যান্য কথাশিল্ী হতে স্বতন্থ। এই তিন গুণের একত্র সমাবেশ অন্যত্র মেলে না। মানবনের বেদনার ঘাত-গ্রতিঘাত অস্কনে তিনি সিদ্ধভস্ত। তীহার রচনায় ' £ণি সর্ধত্র সদ্ভাবেরই প্রাধান্য দেখাইয়াছেন_ পাপ মানুষকে সাময়িকভাবে মোহাবিষ্ট রাখিতে পারে, কিন্তু তাহার প্রভাব চিরস্থা়ী নয়) প্রীতি মৈত্রী

প্রেম সত্য দৌন্দরধ্যই চিরস্তন। মাঝুষের উজ্জল দিকটি এমনভাবে আর কেহ ফুটাইয়! তুলিতে পারেন নাই। তাঁহার জীবনের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য সমগ্র মানবজাতির কলাণ। | সেল্মা লাগর্লফ স্থইডেনের অন্তর্গত ভার্মল্যাণ্ডের মারবাক্কা এস্টেটে ১৮৫৮ শ্রীষ্টান্বের ২০এ নবেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। স্টকৃহল্মের উইমেন'দ স্থপিরিয়র কলেজে শিক্ষা-লাভ করিয়া ইনি ১৮৮৫ হইতে ১৮৯৫ খ্রীষ্টাব্ পর্য্যন্ত ল্যাগ্স্ক্রোনা উচ্চ বালিকা-বিগ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯০৭ শ্রষ্টান্ে লিন্নেউন জুবিলিতে উপসাল। বিশ্ববিগ্ভালয়ের সন্মানন্চক ডক্টর-উপাধি প্রাপ্ত হন। ইনি অনেকগুলি উপন্যাস, ভ্রম্ণবৃত্তাস্ত প্রভৃতি লিখিয়াছেন। কয়েকটির নাম এই-_ঝেটা ব্যারলিং (১৮৯৫), ইন্ভিজিবল লিঙ্কস্‌ (১৮৯৪), মিরাক্ল্স অব আ্যাটিক্রাইস্ট (১৮৯৭) ফ্রম সোয়েডিশ হোম্স্টেড (১৮৯৯), জেরুসালেম (১) (১৯০৬), লেজেগুস্‌ অব ক্রাইস্ট (৯০৪), দি ওয়াগারফুল আযাডভেন্চার অব নিল্স্‌ (১৯০৬), দি গার্ল ফ্রম দি মার্শ (১৯০৮), জেরুসালেম্‌ (২) (১৯১৬), দি আউটকাস্ট (১৯১৮) প্রস্ুতি। তাহার এই “আউটকাস্ট” বা 'জাত্চ্যিত” উপন্যাসখানিই আমাদের 'দেশে সমধিক পরিচিত। ইনি বিদেশে বহু ভ্রমণ করিয়াছেন; ঈজিপ্ট প্যালেস্টাইনে দীর্ঘকাল যাপন করিয়াছিলেন। পরবর্তী কালে প্রকাশিত “মারবাক্কা” পুস্তকখানি তাহার বাল্য কৈশোর কালের আত্মজীবনী (হিসাবে খ্যাতি লাভ করিয়াছে। মিসেস ভেল্মা সোয়ানস্টন হাওয়ার্ড সেল্মা লাগর্লফের বইগুলির চমৎকার ইংরেজী অনুবাদ করিয়া বহিঃপৃথিবীতে তাহাকে পরিচিত করিয়াছেন। ইহার মতে “দি এম্পারার অব পটু গালিয়া' উপন্তাসখানিই সেল্ম! লাগর্লফের শ্রেষ্ট কীত্তি। ইনি চিরকুমারী | মৃত্যুদূত” বইখানির ইংরেজী অনুবাদ “দাই সোল শ্ঠাল বেয়ার উইট্‌নেস নামে প্রক্কাশিত হ্ইয়াছিল। মৃক চলচ্চিত্রের যুগে এই পুস্তকের চিত্ররূপ দর্মকমাত্রকেই মুগ্ধ করিয়াছিল। 'লগুন টাইম্‌স্,

//৭

লেখিকা সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছিলেন, 'মৃত্যুদূতে'র পাঠকেরা তাহা সমর্থন করিবেন_-

9110 195 81) 10680115 0৮076 2710 911)1016 10) 2 ৯/০110 21৮61) 0৮67 10 16911571) 76ট 87101) 15 1116 06711601107) 01 10617 510]6 8061 1176 91116100701

1167 18710 11191 & 8610০186101) 01750115715 101511]) 067

তাহার সম্বন্ধে বিস্তৃততর সংবাদ ধাহারা চান তীহাদিগকে হ্থারি ই. মল (11871 13. 81019 ) প্রণীত গার্ডেন সিটি, নিউইয়র্ক হইতে ১৯১৭ গ্রীষ্টাব্ষে প্রকাশিত ১91111৫ 10201161 : 1110 ড/0111817 71701 ২৫) [তা 015558৪৩, পুস্তকখানি পড়িতে বলি

এই অনুবাদে “সিস্টার”, “ক্যাপ্টেন” প্রভৃতি কথাগুলি ব্যবহৃত হইয়াছে। সালভেশন আমি (মুক্তিফৌজ ) আমাদের দেশেও স্থপরিচিত। ইহার। প্রভূত অধ্যবসায় 9 দৈহিক ক্রেশের মধা দিয়া সমাজপবিত্যক্ত ছুববর্ত নরনারীদের সংস্কারকাধযে আত্মনিয়োগ করিয়া! থাকেন এই মেবাব্রতধারিণীদের সিস্টার নামে অভিহিত করা হয়। তাহারা বস্তিতে বন্তিতে ঘুরিয়া হতভাগ্য বিপথগামীদের সমাজে ফিরাইতে চেষ্টা করেন বলিয়! ইহাদিগকে শ্লাম-সিস্টারও বলা হয়। “ক্যাপ্টেন” বলিতে মুক্তি- ফৌজের ক্ষুদ্র ক্ুত্র দলের নায়িকা বুঝিতে হইবে

এই উপন্যাসে বণিত ঘটনার বাস্তবতা বা অলৌকিকত! বৈজ্ঞানিক যুক্তির বিষয় নহে। ইহা অন্তর্লোকের দ্বন্দের ইতিহাস--আত্মার অনন্ত মুক্তি পুণ্যের জয়ের ইতিহাস, স্তৃতরাং সাধারণ বিচারবুদ্ধির নিক্তিতে ইহার পরিমাপ চলে না। মনে রাখিতে হইবে, আমাদের মত স্বইডেন- বামীরাও ষথেষ্ট কুসংস্কারপরায়ণ।

বিষয়বস্তর গুরুত্ব অন্থুদারে কথোপকথনেও স্থানে স্থানে অনুবাদে সাধু ভাষা ব্যবহৃত হইয়াছে।

সীসজনীকান্ত দাস

পদ রা /?2৫.

রি

ভরা 2255 2/5:22755 পি 6 তপ্ত পদ তর ০০০০৫ লে পা ভি পল প০৫০ ০০৫5০, রি রগ ৫৫ 2২--2ছল নি ঘা হেত

7৮6৮ 5, ৪. পেশা চর বে চি প্রো ০০46৫ পরে নিশির 25 7৫৮৮৩ রিনা হি /৮%৫ রত /5৫৫ ৫০০৮৯ /৫%:6..

6 2৮425৮৮৮ /72/22৫. রি

& সপ দি পা

৫2০০4. নি রী 22

না! ডি,

লং রি মী

মা )

ধা

ণ্‌ মী

৬3১

মা লাগর্লফ

টি

1 ১) টা

রর সপ,

২/ যী

[সাঘাও৯ ৮৮7,

প্রথম পরিচ্ছেদ ৯. দন. ২২ টা, সু

রে 1 ৰং কি সি 5

অন্তরের ঘাত-প্রতিঘাত

সিস্টার ইডিথ মৃত্যুশয্যায় শাফিত। তাহার ক্ষুত্ধ দেহখানিতে আসন মৃত্যুর ছায়! পড়িয়াছে, চারিদিকে দারিদ্রের প্রভাব সুম্পষ্ট। ভীষণ ক্য়রোগের আক্রমণে বংসর-কালের মধ্যেই তাহার জীবনীশক্তি নিঃশেষিত ইইয়৷ আসিয়াছে সে এই দুর্দান্ত দানবের সহিত যুদ্ধে পরাজিত হইয়! :. মৃত্যুকে বরণ করিতে বসিয়াছে। তবু এই রোগাক্রান্ত শরীরে যতক্ষণ: শক্তি ছিল, সে তাহার আরন্ধ কর্তব্য সম্পাদনে পরাঙ্ুখ হয় নাই। শরীর যখন একেবারে ভাঙিয়! পড়িল, তখন নিরুপায় হইয়! সে এক সাধারণ ্াস্থ্যাগারে আশ্রয় লইয়াছিল। কয়েক মাসের চিকিৎসা সেবা- ুশষায় কোনই ফল হয় নাই। যখন সে বুঝিতে পাবিল যে, সে সকল চিকিৎসার অতীত, তখন চিরপরিচিত মাতৃগৃহে ফিরিয়া আসিল। শহরের বাহিরে মায়ের-ষুদ্র কুটারের একটি সঙ্থীর্ণ ঘরে তাহারই আপন শ্যাম শুইয়া সে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছে এই ঘরেই তাহার শৈশব কৈশোর অতিবাহিত হইয়াছে, আজ বুঝি জীবনও অতিবাহিত হইতে চলিল। শয্যাপার্থে ব্যথিত ভারাক্রান্ত চিত্ত লইয়া তাহার মা বলিয়া ছিলেন। তাহার সমস্ত হদয়-নিংড়ানো যু সেবা! দিয়া মেয়েকে বীচাইয়। তুলিবার ব্যর্থ চেষ্টায় তিনি এত ব্যস্ত যে, কীর্দিবার 'অবসুর পর্যন্ত তাহার নাই। রোগিণীর সেবাকার্যে সহযোগিনী একজন সিস্টারও শয্যাপার্থে দাঁড়াইয়া নীরবে অশ্রুবর্ষণ করিতেছিলেন। তাহার সপ্রেম দৃষ্টি রোগিণীর মুখের উপর নিবদ্ধ ছিল ;_অশ্রুতে চক্ষু ভরিয়া আসিলেই তৎক্ষণাৎ মুছিয়া ফেলিয়া দৃষ্টি পরিষ্কার করিয়া লইতেছিলেন। একটু দূরে একটি ভগ্ন জীর্ণ

সত্যুদূত

চেয়ারে এক স্থলকায় নারী উপবিষ্ট . তীহার পরিধেয় বস্বের কদেশে সন্ত্ান্ত পদবীন্থচক একটি চিহ্ন অস্কিত। যে চেয়ারখানিতে তিনি বসিয়৷ আছেন, সেটি রোগিণীর পরম আদরের সামগ্রী এবং একমাত্র ওই, বস্ত- টিকেই সে সঙ্গে লইয়া আসিয়াছে। মহিলাটিকে অন্য একটি আসনে বসিতে অঙ্গুরোধ করা! সত্বেও তিনি সেই জীর্ণ চেয়ারে বসিয়া যেন মুমৃযুর্ী স্থৃতিকে সম্মান করিতেছিলেন

সেটি একটি বিশেষ পর্বদিন__নববর্ষের চর বাহিরে আকাশ ধৃত্রাভ মেঘভারাক্রান্ত ; গৃহাভ্যন্তরে বসিয়া মনে হইতেছিল, বাহিরে প্রকৃতি উদ্দাম-_বাতাস তুষার-শীতল। কিন্তু বাহিরে. আসিলেই মৃদুমিপ্ধ সমীরণের প্রলেপ শরীর মন পুলকিত করিয়া তুলিতেছিল। সুকৃষ্ণ ধর্ণী-গাত্রে তৃধারপাতের চিহ্মাত্র নাই; কদাচিৎ ছুই-এক কণা তুষার পতিত হইয়া তৎক্ষণাৎ মিলাইয়! যাইতেছিল। মনে হইতেছে, যেন বঞ্ধা তুষার প্রাচীন বংসরকে উত্যক্ত না করিয়া আসন্ন বর্ধকে অভিনন্দন করিবার জন্য বলসঞ্চয় করিতেছে

বাহিরের উদাস প্ররতির মত মানুষের মনেও কেমন একটা অবসাদ আসিম্াছে; কিছু করিবার প্রবৃত্তি কাহারও নাই। বাস্তায় লোক- চলাচলের চিহ্ন নাই--ভিতরে লোকের হাতে যথেষ্ট অবকাশ

মুর ঘরের ঠিক সম্মুখের খোল জমিতে একটি নৃতন অট্রালিকার ভিত্তির জন্ত খু'টি পৌতা হইতেছিল। সকালে গুটি-কয়েক মজুর আগিয়া খু'টি-পৌতার বিরাট যন্ত্রটিকে যথারীতি সশব্দে তুলিয়া ফেলিয়া অল্প" ক্ষণেই ক্লান্ত হইয়। চলিয়া গিয়াছে।

চারিদিক কেমন-একটা অবসন্নতার আবেশে মৃচ্ছাপন্ন। মে ঝুড়ি লইয়! ছুটির দিনের হাট-বাজার করিয়া! বহুক্ষণ বাড়ি ফিরিযাছে : পথে লৌক-চলাচল প্রীয় বন্ধ হইয়া আসিয়াছে ছেলের! রাস্তায় খে ছাড়িয়া নৃতন কাপড় পরিবার লোভে বাড়ি আদিয়াছে, আর বাহ

বৃত্যুদূত

হইতে পারে নাই। গাড়ির ঘোড়াগুলিকে খুলিয়া দুর শহরতলীর আন্তাবলে বিশ্রামের জন্য পাঠানো হুইয়াছে। রৌন্র যতই পড়িয়া াসিতেছে, ধীরে ধীরে সমস্তই কেমন যেন শান্ত হইয়া পড়িতেছে। এই নীরব শান্তি এই গুমটের পক্ষে বেশ আরামপ্রদর মনে হইতেছে এতক্ষণ' সকলেই নীরবে রোগীকে লক্ষ্য করিতেছিলেন। জানালার বাহিরে উদদাসভাবে দৃষ্টিপাত করিয়া ম| বলিলেন, “এমনই একটা ছুটির নে ঈডিথকে কোলে তুলে নিয়ে ভগবান ভালই করছেন। বাইরে নব গোলমাল থেমে আসছে। ইডিথ পরম শান্তিতে যেতে পারবে ।” প্রাতঃকাল হইতেই রোগী তন্্রা্ছন্ন, কিন্তু একেবারে অসাড় সংস্ঞা- ত্য নহে। বৈকালের দিকে তাহার মুখের ভাববিপর্ধ্যয় দেখিয়া মনে ইতেছিল যে, তাহার অন্তরে নিদারুণ ছন্দ শুরু হইয়াছে নানা! ভাবে [ত-গ্রতিঘাতের চিহ্ন মুখে ফুটিয়া উঠিতেছিল। কখনও কিছু দেখিয়া বিষম আশ্চর্য হইতেছিল; কখনও মুখ চিন্তাকিষ্ট, মিনতিকাতর [বা অসম্থ যন্ত্রণায় অধীর, সম্প্রতি তাহার মুখে চরম বিরক্তি প্রত্যা- যানের ভাব স্ুম্পষ্ট। এই ভাবাস্তরে রোগীর স্বাভাবিক কমনীয়তা না নষ্ট ইয়া তাহাকে এক অপরূপ উগ্র সৌন্দর্যে মহিমামমী করিয়া তুলিয়াছে। ঈডিথের মুখের এই অস্বাভাবিক জ্যোতি উগ্রতা দেখিয়া সিন্টার মরী উপবিষ্টা মহিলাটির কানে কানে বলিলেন, “দেখুম ক্যাপ্টেন, স্টার ঈডিথকে কেমন সুন্দর দেখাচ্ছে-_ঠিক রাণীর মতন দীপ্তিময়ী 1” স্ুলকায়া মহিলাটি রোগ্রিণীকে ভাল করিয়৷ দেখিবার 'জন্ত চেয়ার ড়িয়া শখ্যাপার্্ে আসিয়া দীড়াইলেন। তিনি ঈডিথের নম 1নন্দোজ্জল মুখগ্রীই বরাবর দেখিয়া আসিয়াছেন। এমনন-কি, দারুণ রোগ- 'গার মধ্যেও শেষ পর্য্যন্ত তাহার সে সৌন্দর্য অঙ্ষুধ ছিল। তাই আজি- [র এই পরিবর্তনে তিনি এমনই আশ্চধ্য হইলেন যে, পুনরায় আমন- রগ্রহ না করিয়া ফ্লাড়াইয়া রহিলেন।

মৃত্যুদূত

কি যেন এক অধীর আবেগে রোগিণী বালিশ হইতে মাথা তুলিয়া উঠিয়া! বসিবার চেষ্টা করিতেছিল। এক অবর্ণনীয় বিরক্তিতে তাহার ভ্র কুঞ্চিত। ওষ্টাধরে কম্পন ছিল ন1 বটে, কিন্ত মনে হইতেছিল, যেন

সে কাহাকেও অনুযোগ করিতেছে

মহিলা দুইটিকে আশ্চর্য হইতে দেখিয়া ঈডিথের ম! রে ধীরে বলিলেন, “অন্য দিনেও আমি ঈডিথের এই অদ্ভুত ভাব লক্ষ্য করেছি। ঠিক এই সময়েই না সে তার পতিতোদ্ধারের কাজে বের হন্ত!

সিদ্টার মেরী পাশের টেবিলের উপরকার ঘড়িটির দিকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, “হ্যা, এই সময়েই সে হতভাগ্য পতিতদের পাড়ায় তাদের সাহায্য করতে ষেত।” বলিতে বলিতে তাহার চক্ষু অশ্রসজল হইয়া উঠিল; তিনি রুমাল দিয়া মুখ ঢাকিলেন। ঈভিথের আসন্নমৃত্যু তাহাকে এমনই ব্যথিত করিয়াছিল যে, তাহার সম্বন্ধে কোনও কথা বলিতে গেলেই কান্নায় তাহার | বুক ভরিয়! উঠিতেছিল। | |

কন্যার একটি অসাড় হাত আপনার মুঠার মধ্যে চাপিয়া ধরিয়া মা. ধীরে ধীরে তাহাতে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলেন, “বোধ করি এই হৃতভাগাদের নোংরা বস্তি পরিষ্কার ক'রে দিতে তাদের বদ অভ্যাস ছাড়াতে তাকে খুবই বেগ পেতে হ'ত। এমনধারা কঠিন কাজে লোকে যখন হাত দেয়, তখন তার ভাবনাও তার কাজকে সর্বক্ষণ অন্থসরণ ক'রে ফেরে। ঈডিথ বোধ হয় ভাবছে যে, সেই নোংরা পল্লীতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তাঁহার নিজের মুখ দ্ব্ায় কুধ্চিত: হইয়া উঠিল। ্‌ |

ক্যাপ্টেন শান্তড়াবে বলিলেন, “যে কাজকে লোকে ভালবাসে, তার জন্যে এমন হওয়াই তো স্বাভাবিক ।”

হঠাৎ তীহারা লক্ষ্য করিলেন, রোগিণীর নিশ্বাম অতি ঘন ঘন: পড়িতেছে, ভ্র দ্রুত সন্কুচিত প্রসারিত হইতেছে, কপালের রেখাগুলি!

মতুদূত

ুম্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে, ঘ্বণীয় কম্পিত হইতেছে। বোধ হইল যেন সে এখনই চক্ষ্রুমীলন করিবে তাহা দিয়! অগ্রিজালা নির্গত হইবে

স্থলকায় মহিলাটি আবেগকম্পিতম্বরে বলিয়া উঠিলেন, “ঈডিথকে ঠিক রোষদীপ্ত দেবীর মত দেখাচ্ছে ।”

“ঈভিথের মন এখন বস্তির বীভৎসতার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, না জানি সেখানে কি দেখে সে এমন করছে !”_ বলিয়া সিস্টার মেরী অন্য ছুইটি নারীকে সরাইয়া দিয়া মুমূূর কপালে হাত. বুলাইতে বুলাইতে তাহাকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেন, “ঈডিথ, বোন, তুমি কেন ওদের জন্যে এত ভাবছ'? তুমি তো চেষ্টার ত্রুটি কর নি।”

কথায় যেন কাজ হুইল। রোগিণীর মনের মেঘ ক্রমশ যেন কাটিয়া গেল; রোষদীপ্ত ভাব অনেকটা তিরোহিত হইল। তাহার স্বাভাবিক কমনীয়তা! মাধুধ্য ফিরিয়া আসিল।

সে ধীরে ধীরে চক্ষু মেলিল। মেরীকে সম্মুখে দেখিতে পাইয়া দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া! তাহার একটি ক্ষীণ হাত তীহার কাধে ফেলিয়া তাহাকে আরও কাছে টানিয়া লইল।

ঈডিথের মিনতিকাতর দৃষ্টি দেখিয়! সিস্টার মেরী ব্যথিত হইয়া উঠিলেন। তাহার কপালে সন্সেহ করম্পর্শ করিয়া আবেগ-উচ্ছৃসিত কে জিজ্ঞাস! করিলেন, “কঈডিথ, কেমন আছ ?” |

ঈডিথ অতি মৃদুম্বরে তাহার কানে কানে শুধু বলিল, “ডেভিড হল্ম্‌।”

ভুল শুনিয়াছেন ভাবিয়া! সিস্টার মেরী মাথা নাড়িয়! জানাইলেন যে, তিনি বুঝিতে পারেন নাই। .

রোগিণী পরিশ্রাস্ত বোধ করিয়! কিছুক্ষণ স্তব্ধ হইয়! পড়িয়৷ রহিল। তাহার পর আবার অতি কষ্টে থামিয়া থামিয়! ক্ষীণ স্বরে বলিল, “ডেভিড ল্ম্‌কে ডেকে দিতে বলুন না।”

সে সিষ্টার মেরীর দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া রহিল। যখন বুঝিতে

ত্াদূত

পারিল ষে, সিস্টার মেরী তাহার কথা বুঝিতে পারিয়াছেন, তখন সে আশ্বাসে চক্ষু মুদ্রিত করিল।

সে আবার তন্্াচ্ছন্ন হইয়া পড়িল; অন্তরের ঘাতপ্রতিঘাতে মুখে আবার সেই ভাবাস্তর হইতে লাগিল। ক্রোধ ত্ব্ণ! প্রভৃতির ছন্দে তাহার আত্ম! পীড়িত হইতে লাগিল

কি যেন এক মানসিক আন্দোলনে সিস্টার মেরীর কান্না! থামিয়া গেল? তিনি উঠিয়া দীড়াইলেন।

ক্যাপ্টেনের সম্মুখে গিয়া তিনি শাস্তভাবে বলিলেন, “ঈডিথ ডেভিড হল্মের সঙ্গে দেখা করতে চায় ।”

ঈডিথ যেন সাংঘাতিক কিছু করিতে বলিতেছে, বিপুলকায় মহিলাটি বিশেষ বিচলিত হইয়া পড়িলেন।

"ডেভিড হৃল্ম! সে যে একেবারে অসম্ভব; মুমূর্ রোগীর কাছে ডেভিড হল্মূকে তো৷ কিছুতেই আসতে দেওয়া! হতে পারে না।”

কন্যার শয্যাপার্খে বসিয়া মা এতক্ষণ তাহার মুখের ভাববিপর্ধ্যয় লক্ষ্য করিতেছিলেন। তিনি কিছুই বুঝিতে ন! পারিয়া বিচলিতা মহিলা দুইটির দিকে চাহিলেন।

ক্যাপ্টেন বলিলেন, “ঈডিথ ডেভিড হল্ম্‌কে ডাকতে বলছে আমর! বুঝে উঠতে পারছি না সেটা ঠিক হবে কি না!”

ঈডিথের মা তবুও কিছু বুঝিতে না পারিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “ডেভিড হল্ম? কেসে?”

“সে এক হতভাগ্য জীব__-তাকে শোধরাবার জন্যে ঈডিথ কি চেষ্টাটাই না করেছে! কিন্ত ভগবান তাকে সফলকাম করলেন না; তার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।”

মেরী দ্বিধাজড়িতভাবে বলিয়া উঠিলেন, “ক্যাপ্টেন, ভগবান বোধ করি এই শেষ মুহূর্তে ঈডিথকে দিয়ে সে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন ।”

মৃত্যুদূত

রোগিণীর মা একটু বিরক্তভাবে বলিলেন, “যতদিন আমার মেয়ে বেঁচে ছিল, ততদিন আপনারা তাঁকে নিয়ে যা খুশি করেছেন। আজ সে মরতে বসেছে-__এখন আমাকে তার সম্বন্ধে কি করতে নাঁকরতে হবে বিচার করতে দিন |” |

ইহা শুনিয়া অপর ছুইজনে নিশ্চিন্ত হইলেন। মেরী রোগীর পায়ের দিকে বিছানার উপর বসিলেন। ক্যাপ্টেন সেই জীর্ণ চেয়ারে বসিয়া পড়িয়া চক্ষু বুজিয়া একাগ্রচিত্তে অস্ুটস্বরে প্রার্থনা কবিতে' লাগিলেন। তাহার দুই-চাবিটি কথামাত্র স্পষ্ট বোঝা গেল; __ঈডিথের আত্ম! শান্তিতে বাহির হইয়া যাক- কর্মজীবনের ছুঃখ যন্ত্রণা চিন্তা! দ্বারা এই মৃত্যুকালে যেন তাহা গীড়িত না হয়।

মেরী তীহার স্কন্ধে হস্তার্পণ করিতেই তিনি চোখ খুলিলেন।

রোগিণীর আবার জ্ঞান ফিরিয়া আসিয়াছে পূর্বের মত কাতর বিনীত ভাব নাই; ক্রোধোজ্জল উদ্দীপ্তমুখে যেন আসন্ন ঝটিকার পূর্বাভাস

মেরী ঈডিথের মুখের কাছে মুখ লইয়া গেলেন। ঈডিথ একটু ক্রুদ্ধ স্বরে বলিল, “সিস্টার মেরী, ডেভিড হল্মকে কি ডাকতে পাঠান নি ?”

খুব সম্ভব অপর ছুইজনের ঈডিথকে যাহোক-কিছু বলিয়া শান্ত করিবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু মেরী হঈডিথের চোখে এমন-কিছু দেখিলেন, যাহাতে মিথ্যা! প্রবোধবাক্য তাহার মুখে জোগাইল নাঁ। বলিলেন, “ঈডিথ, আমি তাকে যেমন ক'রে পারি ডেকে আনছি ।” ইডিথের মায়ের দ্রিকে চাহিয়া বলিলেন, “মাপ করুন, আমি জীবনে ঈডিথের কোনও কথাই ঠেলতে পারি নি, আজ তা কেমন ক'রে করব ?”

ঈডিথ আশ্বস্ত হইয়া আবার ঘুমাইয়! পড়িল। মেরী বাহিরে চলিয়া গেলেন।

ঘরে .আবার নিস্তব্ধতা বিরাজ করিতে লাগিল। মুমূর্য অতি কষ্টে

ত্যুদূত

নিশ্বাস লইতেছে দেখিয়! মা বিছানার নিকটে সরিয়া বসিলেন, যেন কন্যাকে বক্ষপুটে নিবিড় করিয়া ধরিয়া মৃত্যুর কবল হইতে রক্ষা করিবেন।

কিছুক্ষণ পরে ঈডিথ চোখ খুলিল; তাহার চোখে সেই অধীর চাঞ্চল্য মেরীর আসন শূন্য দেখিয়া! তাহার মুখভাব শান্ত হইয়া আসিল। সে নিঃশবে পড়িয়া রহিল। তখন তাহার জ্ঞান সম্পূর্ণ ফিরিয়া আসিয়াছে--ঘুমের ভাবটাও কাটিয়া গিয়াছে।

বাহিরে একটি দরজা খুলিবার শব্দ হইল। রোগী চকিত হইয়া বিছানায় উঠিয়! বসিয়া কিসের যেন প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। নিঃশবে সেই ঘরের দরজা খুলিয়! সিস্টার মেরী ঘরের ভিতর মুখ বাড়াইয়া বলিলেন, “ক্যাপ্টেন আযাগারসন, দয়া ক'রে এখানে একবারে আস্ুন। আমি ঘরের ভিতর ঢুকব না বাইরের হাওয়ায় আমার জামা কাপড় ভিজে গেছে। আমি কাপড় ছেড়ে আসছি” রোগিণীর দিকে” চোখ পড়িতেই দেখিলেন, মে এককৃষ্টে তাহার দিকে তাকাইয়া আছে। তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, “ঈডিথ, আমি এখনও তাকে খুঁজে বের করতে পারি নি; তবে গুস্তাভাস্তনের . সঙ্গে দেখা হ'ল। মে আর আমাদের দলের আরও দুজন যেমন ক'রে পারে ডেভিডকে খুঁজে আনবে ।” তাহার কথা শেষ হইতে না হইতেই ঈডিথের চক্ষু বুজিয়া আসিল) সে আবার সেই দ্রারুণ দুশ্চিন্তার মধ্যে ডুবিয়া গেল। মেরী ঈডিখের এই তন্দ্রা লক্ষ্য করিয়৷ বলিয়। উঠিলেন, “ঈডিথ বিকারের ঘোরে নিশ্চয়ই হৃল্ম্‌কে দেখতে পাচ্ছে। দেখছেন না, তার দৃষ্টি কেমন অভিমানক্ষুৰ! শাস্তি, শাস্তি__তীর ইচ্ছাই পূর্ণ হোক ।”

তিনি পার্ববস্তী ঘরে চলিয়া গেলেন; ক্যাপ্টেন জ্যাগ্ডারসন তাহার অন্থুসরণ করিলেন।

সেই ঘরের মাঝখানে একটি নারী দীড়াইয়া ছিল। বয়স ত্রিশের বেশি হইবে না। রং ফ্যাকাশে বিশ্রী হইয়া গিয়াছে; মাথার

নত্যুদূত

চুল অধিকাংশ উঠিয়! গিয়াছে; গায়ের চামড়া! কুঞ্চিত ) বৃদ্ধাদের শরীরও এত ভাঙ্মা পড়ে নাঁ। তাহার পরিধেয় বন্্র এমনই জীর্ণ সামান্য যে, মনে হয় সে ইচ্ছা করিয়া অতিরিক্ত ভিক্ষা! পাইবার লোভে বাছিয়া বাছিয়! এই বস্ত্র পরিয়াছে। ক্যাপ্টেন সভয়ে মেয়েটির দ্রিকে চাহিলেন। তাহার জীর্ণ বেশ ষ্ট-্বাস্্াই যে ভয়াবহ তাহা নহে; মনে হইতেছিল যেন তাহার দেহ জমাট বীধিয়া! পাষাণ হইয়া গিয়াছে-_সজীবতার লেশমাত্র নাই। সে যেন স্বপ্লাবিষ্টের মত চলিয়া ফিরিয়া বেড়াইতেছে ; কোথায় আসিয়াছে, কেন আসিয়াছে জানে না। সম্ভবত সে প্রাণে নিদারণ আঘাত পাইয়া সকল বুদ্ধিবৃত্তি হারাইয়া ফেলিয়াছে। বদ্ধ উন্মাদ হইতে বুঝি আর বাকি নাই। মেরী বলিলেন, “ও ডেভিড হল্মের স্ত্রী। ডেভিড হল্মের বাড়িতে গিয়ে দেখি, সে নিরুদ্দেশ) এই বেচারা মূঢ়ের মত বসে আছে। আমি ঘা জিজ্ঞেস করি কিছুই বুঝতে পারে না, ফ্যালফ্যাল ক'রে তাকিয়ে থাকে ওকে সেখানে এই অবস্থায় ফেলে রেখে আসতে প্রবৃত্তি হ'ল ন1।” ক্যাপ্টেন বলিলেন, “ডেভিড হল্মের স্ত্রী! আমি যেন ওকে আগে কাথায় দেখেছি ওর কি হয়েছে? এমনধারা হ'ল কেন?” হঠাৎ অত্যন্ত রাগিয়া উঠিয়। সিস্টার মেরী উত্তর করিলেন, “আজ কন? স্বামী দুর্বৃত্ত দুর্দান্ত হ'লে যা হয় ওর তাই হয়েছে। সে যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে ওর এই অবস্থা করেছে নিশ্চয়ই |” ক্যাপ্টেন মেয়েটির আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিলেন। তাহার চক্ষু কাটর হইতে বাহির হইয়া আসিতে চায়; চোখের তারা স্থির, নিশ্চল। সহ মানসিক যন্ত্রণায় আঙলগুলি মুষ্টিবদ্ধ, মাঝে মাঝে একটা অন্তগৃণট বদনায় তাহার সর্বাঙ্গ থরথর করিয়া কাপিতেছিল। ক্যাপ্টেন আশ্চর্য্য হইয়| বলিলেন, “না জানি কি বিষম অত্যাচারে ওর মন অবস্থা হয়েছে ।” |

তত

মেরী বলিলেন, “কি জানি। আমার, কোনও কথারই জবাব দিতে পারলে না, কেবল থরথর ক'রে কাপতে লাগল শুনলাম ওর ছেলেরাও কোথায় গেছে; এমন কোনও লোক ছিল না যাকে জিজ্ঞেন ক'রে খবর কিছু জানতে পারি। হায়, ভগবান এমন দিনে কেন এর দুরবস্থা চোখে দেখালে ! সিস্টার ঈডিথের আসন্ন অবস্থা ; এই উন্মাদকে নিয়ে এখন করি কি!”

“সম্ভবত লোকটা একে মারধোর করেছে।”

"না, আরও সাংঘাতিক কিছু ঘটে থাকবে আমি অনেক মেয়ে দেখেছি, যারা স্বামীর প্রহারে অভান্ত, কিন্তু এমনটি ঘটতে দেখি নি। না, আরও ভয়ানক কিছু হবে। সিস্টার ঈডিথের মুখের ভাব দেখেও তাই মনে হচ্ছে।”

ক্যাপ্টেন বলিলেন, “তাই ঠিক। এখন বুঝতে পারছি সিস্টার ঈডিথকে কিসে এত যন্ত্রণা দিচ্ছিল। ভগবানকে ধন্যবাদ যে ঈডিথ তোমাকে জোর ক'রে সেখানে পাঠালে, নইলে এই হৃতভাগিনীর কি দুর্দশাই না হ'ত! ঈশ্বর ওর ওপর দয়া করছেন 1”

“কিন্ত ক্যাপ্টেন, ওকে নিয়ে এখন কি করব? আমার কথা বোঝে না বটে, কিন্তু ওর হাত ধরলেই আমার পিছু নিচ্ছে। ওর সমস্ত বোধশক্তি নষ্ট হতে বসেছে, ওকে জ্ঞান ফিরে দেওয়া যায় কি ক'রে? আমিও হতাশ হয়েছি। দ্রেখুন, আপনি কিছু করতে পারেন কি না!”

স্থুলকায়া মহিলাটি পরম স্নেহে দুর্ভাগিনীর হাত ধরিয়া অতি মৃদুস্বরে তাহার সহিত কথা বলিতে চেষ্টা করিলেন; সে কিছু বুঝিল বলিয়া বোধ হইল না। রি |

তাহার এই নিক্ষল প্রয়াসের মধ্যে ইঈডিথের মা ব্যস্তসমস্তভাবে দরজার বাহিরে মুখ বাড়াইয়া বলিলেন, “ঈডিথ বড্ড অস্থির হয়ে পড়েছে। আপনারা বরং ভিতরে আস্মন।” উভয়েই অর্ধোম্মাদ রমণীটির কথ

ত্যুদূত ১১

বিস্বৃত হইয়া ভিতরে প্রবেশ করিলেন। ঈডিথ ছটফট করিয়! শয্যায় এপাশ ওপাশ করিতেছিল; বোঝা যাইতেছিল তাহার যন্ত্রণা শারীরিক নহে, মানসিক। মেরী ক্যাপ্টেন আযাগডারসনকে দেখিতে পাইয়! সে একটু শান্ত হইয়া চক্ষু মুদ্রিত করিল ক্যাপ্টেন মেরীকে রোগিণীর কাছে থাকিতে বলিয়া নিঃশবে বাহির হইয়া যাইবার জন্ত উঠিয়া দাড়াইলেন। এমন স্ময় মুক্ত দ্বারপথে ডেভিড হল্মের স্ত্রী মেখানে প্রবেশ করিল। সে ধীরে ধীরে রোগীর শয্যাপার্থ্বে আসিয়া একদৃষ্টে তাহাকে দেখিতে লাগিল। তাহার শরীর কীাপিতেছিল-_ভিতরের ' হাঁড়গুলিতে পর্যন্ত 'যেন কাঁপুনি ধরিয়াছে। কিছুক্ষণ সে নির্বাক নিষ্পন্দ। কিছু বুঝিতেছে বলিয়া বোধ হইল না। কিন্তু ক্রমশ তাহার দৃষ্টি শান্ত হইয়া আসিল। নে ঝুঁকিয়া পড়িয়া ধীরে ধীরে রোগীর মুখের কাছে মুখ লইয়া গেল। একটা কঠোর পৈশাচিক উগ্রতা তাহার মুখে ফুটিয়া উঠিল; হাতের মুঠা খুলিতে বন্ধ করিতে লাগিল। মেরী ক্যাপ্টেন সভয়ে ফাইয়া উঠিলেন_-এই বুঝি সে ঈডিথের উপর ঝাপাইয়া পড়ে। ঈডিথ চক্ষুরুত্মীলন করিয়া লেই ভীষণ অর্দোন্মাদ নারীকে সম্মুথে দেখিয়া চকিতে উঠিয়! বসিল এবং ছুর্দিমনীয় আবেগে সেই ছুর্ভাগিনীকে জড়াইয়া ধরিয়া শরীরের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করিয়া তাহাকে বুকে টানিয়া লইল এবং তাহার কপালে ওষ্ঠে গালে চুম্বন করিতে করিতে অস্ফুটস্বরে তে লাগিল, “হায় ছূর্তাগিনী-হায় অভাগিনী 1” উ্নাদিনী প্রথমটা সরিয়া যাইতে চেষ্টা করিল। কিন্তু সহসা কি যেন [ক অননুভূত আবেগে তাহার সমস্ত দেহ শিহরিয়া উঠিল। সে উচ্চৃুসিত ইয়া কীদিয়া উঠিল এবং হাটু গাড়িযা শখ্যার পার্খে বসিয়া পড়িয়া ঈডিথের মাথা রাখিল। তাহার চোখ হইতে দরদরধারে অশ্রু ঝরিতে লাগিল।

১২ মৃত্যুূত

উভয়েই এই হ্ব্গীয় দৃশ্য দেখিয্বা মুগ্ধ হইলেন। মেরী তাহার অশ্রুসিক্ত রুমালখানি দিয়া চোখ মুছিতে মুছিতে রুদ্ধ কণ্ঠন্বর স্বাভাবিক করিতে চেষ্টা করিয়া বলিলেন, *শুধু সিস্টার ঈডিথই এমন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। সে চলে গেলে আমাদের গতি কি হবে?”

ঈডিথের মায়ের এইসব উচ্ছ্বীস ভাল লাগিল না। তাহারা তাহার বিরক্তি লক্ষ্য করিয়া শান্ত হইলেন। ক্যাপ্টেন বলিলেন, “ওর স্বামী ওকে নিয়ে যেতে এখানে এসে উপস্থিত হতে পারে। তা কিছুতেই ঘটতে দেওয়! হবে না। সিস্টার মেরী, তুমি ঈডিথের কাছে থাকো! আমি দেখি হল্মের স্ত্রীর কি ব্যবস্থা করতে পারি ।”

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ নববর্ষের উদ্বোধন

সেই উৎসব-রজনীতে তিনটি লোক নগরের গিজ্জার পাশে একটি ঝোপের ভিতর বসিয়া তাড়ি .খাইতেছিল। রাত্রি তখন গভীর হইয়! আসিয়াছে; অন্ধকার নিবিড় হইয়াছে। গোটা কয়েক লেবুগাছ সেই ঝোপের উপর শাখ। বিস্তার করিয়া স্থানটিকে আবও অন্ধকার করিয়া তুলিয়াছে। নীচের ঘাসগুলি শীতের প্রকোপে শুকাইয়া গিয়াছে। লেবুপাতার উপর শিশির জমিয়া সেই ক্ষীণ আলোকেও ঝকঝক করিতেছে লোকগুলি সেই শীতের মধ্যেই বেশ আরাম করিয়! বসিয়া ছিল। সন্ধ্যার পূর্লে তাহারা তাড়িখানায় জমায়েত হুইয়! বেশ একটুখানি মশগুল হইয়া! উঠিয়াছিল, কিন্তু সন্ধ্যার খানিক পরেই দৌকান বন্ধ হইয়া যাওয়াতে তাহারা নিঞ্জনে গিজ্জার এই ঝোপের ভিতর আসিয়া বসিয়াছে। সেটি যে নববর্ষের পরদিন, মদ খাইলেও সে জ্ঞানটুকু তাহাদের

মৃত্যুদূত রী

ল। তাহারা রাত্রি বারোটা বাজিবার প্রতীক্ষা করিতেছিল। গিঞ্জার কাছাকাছি বসিলে নিশ্চয়ই গিজ্জার ঘণ্টার আওয়াজ তাহার! শুনিতে পাইবে নববর্ষকে অভিনন্দিত করিবার জন্য তিন জনে এক এক পাত্র করিয়] তাড়ি খাইবে।

তাহার! একেবারে অন্ধকীরে ছিল না। রাস্তার বৈদ্যুতিক আলো গাছের পাতার ফাকে ফাকে আসিয়া পড়িতেছিল। ইহাদের মধ্যে ছুই জনের বয়স হইয়াছে; কোমর ভাঙিয়া পড়িয়াছে। এই দুর্ভাগা জীব হুইটি শহরের বাহিরে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করিয়া ফেরে। আজ শহরে আসিয়া সেই ভিক্ষালন্ধ অর্থে মদ খাইয়া! একটু ক্ষন্তি করিতে আসিয়াছে তৃতীয় ব্যক্তির বয়স ত্রিশের কিছু বেশি হইবে অপর ছুই জনের মত সেও কুৎসিত জীর্ণ বেশ পরিয়া আপনাকে বীভৎস করিয়! তুলিয়াছিল বটে, কিন্তু সে আসলে দীর্ঘকায় স্বপুরুষ, তাহার শরীর সবল সুস্থ

তাহাদের ভয় ছিল যে পুলিসে তাহাদিগকে দেখিতে পাইলে তাড়াইয়৷ দবে; তাই তাহারা খুব ঘেষাঘেষি করিয়া বসিয়। নিযন্বরে আলাপ করিতেছিল। কমবয়ন্ক লোকটি একাই বিয়া যাইতেছিল। অন্ত ইইজনে এমন গভীর মনোযোগের সহিত তাহার কথ শুনিতেছিল যে, বহুক্ষণ তাহারা মদের বোতল স্পর্শ করে নাই ্‌

নানা রকমের হাসির গল্প বলিতে বলিতে নে হঠাৎ একটু গন্ভীর ইয়া পড়িল; যেন কোনও অপদেবতার কথা স্মরণ করিয়া সে ভয় পাইয়াছে। যেন তাহার গ! ছমছম করিতে লাগিল) কিন্তু চোখের কোণে একটু দুষ্টামির হাসি। সে গম্ভীর ভাবে একটি নৃতন গল্প শুরু করিল।

“আজ হঠাৎ আমার এক দোস্তের কথা মনে পড়ে গেল; সে আমার বহুদিনের প্রাণের বন্ধু এই পরবের দ্রিনে সে যেন ভিন্ন মানুষ হয়ে যত। সেদিন তার সারা বছরকার লাঁভ-লোকসান হিসেবনিকেশ [তিয়ে লোকসান দেখে যে সে গুম হয়ে পড়ত, তা'নয়। নে কার

১৪

কাছ থেকে একটা ভয়ঙ্কর গু; ".. ছল আর তাই মনে ক'রে সেদিন তার সোয়ান্তি থাকত না| দৌঁদিন তার ভাবটা হ'ত__কি জানি কিহয়! সকাল থেকে রাত পর্যস্ত প্যাচার মত গুম হয়ে থাকত-_কারু সঙ্গে কথাটি পধ্যন্ত বলত না। অথচ অন্যদিন সে বেশ সাদাসিধে প্রাণ-খোলা ইয়ার লোক। কিন্তু এই পর্বদিনে তাকে একটু ফুত্তির জন্যে ঘরের বার করে কার সাধ্যি! এই তোমর! পুলিসের কর্তাকে দেখলে যেমন জুজুবুড়িটি হয়ে পড়, সেই রকম সেও জুজু হয়ে বসে থাকত।

«তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছ সে কিসের ভয়ে এমনটি করত! তার এই ভয়ের কথা সে কাউকেই বূলত না; আমি ভূলিয়ে-ভালিয়ে একবার তার কাছে থেকে কথাটা আদায় করেছিলাম সে-_ না থাকগে বাপু, আজ রাত্রে আর সে কথা বলব না জায়গাটা বড় ভাল নয়; এই গিজ্জের আশেপাশে এই সব ঝোপঝাপের নীচেই তো আগে গোরস্থান ছিল।. এখানে ওসব কথা বলা কি ভাল, তোমর! কি বল হে?”

অন্য লোক দুইটি নড়িয়া চড়িয়৷ বসিয়া বুক ঠকিয়া বলিল, “আবে যাও, ওসব ভূত-টুতের আমরা তোয়াক্কা করি না তুমি ব'লে যাও না।”

“আমি যার কথা বলছি, সে বেশ বড় ঘরের ছেলে। উপসালার কলেজে সে দস্তরমত লেখাপড়া শিখেছিল, আমাদের মত গো-মুখু ছিল না। নতুন বছরের পর্বদিনে সে এক ফোটাও মাল টান্ত না, পাছে পেটে কিছু পড়লে মেজাজ বিগড়ে গিয়ে কারু সঙ্গে দাক্গাহাঙ্গাম৷ বেধে যায় আর বেঘোরে মার-টার খেয়ে সেই রাত্রেই সে মারা যায় এই ছিল তার ভয়। অন্যদিনে সে পীড় মাতাল হয়ে পড়ত আর যমকে একটুও তোয়াক্কা করত না। কিন্তু এই দিনে__সর্ধনাশ ! কিছুতেই এ-দ্রিনে মরা হতে পারে না, কারণ আজ ঠিক রাত বারোটার সময় মরলেই তাকে যমের মড়াঠেলা! গাড়ির কোচোয়ান হতে হবে যে-- অবিশ্তি আমি তারই বিশ্বাসের. কথা৷ বলছি।” |

যুতাদূত ১৫

অন্য দুইজন তাহার আর একটু কাছ ঘেষিয়৷ সভয়ে চুপি চুপি বলিয়া উঠিল, "মের গাড়ি 1”

দীর্ঘকায় লোকটি অন্য দুইজনের কৌতুহল আর ভয় জাগাইয়া মনে মনে বেশ একটু মজা অনুভব করিতেছিল। সে বলিল, “থাক, আর বলব না, তোমরা ভয় পাচ্ছ দেখছি ।”

ছুইজনে সাগ্রহে বলিয়া উঠিল, “ন! না, কিছু না, তুমি বল।”

“আমার এই দোস্তটির বিশ্বাস ছিল যে, ময়লা-ফেল! গাড়ির মত বমেরও একটা ভাঙা পুরনো গাড়ি আছে। নে গাড়িটার যা বর্ণনা করত, তাতে (ঘোড়ান্থৃদ্ধ গাড়িটি বেশ অদ্ভুত বলেই মনে হয়। সেটার অবস্থা নাকি এমনই হয়েছে যে, শহরের রাস্তায় তাকে বের করাই চলে না। কাদা আর ধূলোতে এমনি ঢাকা যে, কি দিয়ে তৈরি বোঝবার জো নেই। তার জোয়াল হল-হল করছে, চাকাগুলো৷ খসে পড়ল ব'লে। চাকায় রাপের জন্মে কথনও তেল পড়ে নি। ছুপাক ঘুরলেই এমন বিশ্রী আওয়াজ হয় যে, শুনলে মানুষ ক্ষেপে যায়। গাড়ির তলা পচে ধসে গেছে। কোচবাক্নের অবস্থা সাংঘাতিক। গাড়িটাতে একটা একচোখো মান্বাতার আমলের ঘোড়া জোতা আছে- সেটা শুকিয়ে .শুধু হাড় কখানায় ঠেকেছে; বেতো শক্ত পাঁ। ছোট ছেলের হামাগুড়ি দেওয়ার মত ক'রে বহু কষ্টে চলে। ঘোড়ার সাজে শ্ঠাওল পড়েছে আর অর্ধেক সাজ তো নেই-ই। কোনও রকমে দড়ি বেঁধে

নাড়াতাড়া দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে লাগামটি সব চাইতে চমৎকার -_ আগাগোড়া খালি গিট; একেবারে কাজের বাইরে |” |

এই পধ্যন্ত বলিয়া সে হাত বাড়াইয়া মদের পাত্রটি টানিয়৷ লইল তাহার শ্রোতাদের ভাবিবার একটু অবসর দ্দিল।

“তোমরা ভাবছ গল্পকথা। হবেও বা। কিন্তুসে বেচারা এটা খুব বিশ্বাস-করত। হ্ট্যা, গাঁড়ির কোচোয়ানের কথা৷ তে! বললাম না।

১৬ ত্যুদূত

সে সেই ভাঙা কোচবাক্সে কুজো হয়ে বসে ধীরে সুস্থে গাঁড়ি চালায়। তার ঠোট কালে! হয়ে গেছে, গালে কালশিরে পড়েছে, চোখ দুটো আয়নার মত জলজলে। একটা ভীষণ মিশকালো বাঁছুরে আলখাল্৷ গায়ে; মাথায় একটা মুখঢাকা টুপি। হাতে ভোতা মরচে-ধরা কান্তে। সাজট| এমন হ'লে কি হয়, লোকটি সাধারণ নয়_-যমের দূত, দ্রিন নেই রাত নেই কর্তার হুকুম তামিল ক'রেই ফিরছে যেমনই কারু মরবার সময় হ'ল, তাকে হাজির থাকতেই হবে, ক্যাচরকৌচর শব্দে তার কান! ঘোড়া আর ফুটে! গাড়ি চালিয়ে সেখানে তাঁকে যেতেই হবে ।”

সে তাহার সঙ্গীদের মুখের অবস্থা লক্ষ্য করিতে লাগিল; তাহারা! সভয় মনোযোগে একদৃষ্টে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া শুনিতেছিল।

«তোমর! নিশ্চয় কোথাও ন1! কোথাও যমের ছবি দেখে থাকবে-- সব জায়গায়ই তিনি পায়ে ইেটে চলেছেন, কিন্তু এর দূত চলেন গাড়িতে কর্তী বোধ করি বেছে বেছে বড় বড় লোকের বাড়ি হোমরাচোমর৷ লোকের তদারকে ফেরেন, আর এই বেচারীকে যত সব বস্তাপচা রদ্দি মাল কুড়িয়ে ফিরতে হয়। সব চাইতে আশ্চর্য্য ব্যাপার এই যে, কোচোয়ান বরাবর একজন নয়; শোন! যায় সেই মান্ধাতার গাড়িখানা আর ঘোড়া ঠিক আছে বটে, কিন্তু গাড়োয়ান বদলি হয়। কে কোচোয়ান হবে তাও ঠিক করা আছে। বছরের শেষদিন: ঠিক রাত বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে যে মারা যাবে, তাঁকেই যমের গাড়ির গাড়োয়ান হতে হবে তার লাস সব্বাইকার মত পুঁতে ফেল! হয়, কিন্তু তার পাতল! শরীর সেই বীছুরে পোশাক পরে, .কান্তে হাতে লাগাম ধ'রে গাড়িতে বসে, আর লোকের দরজায় দরজায় মড়া কুড়িয়ে ফেরে। ফের নতুন বছরের রাত বারোটায় কেউ ম'রে ০০০০০ দিচ্ছে, ততক্ষণ তাকে এই ভাবে ঘুরে বেড়াতে হয়।”

তাহার গল্প শেষ হইল। সে গম্ভীর হইয়া! তাহার সঙ্গীদের অবস্থা

মৃত্যুদূত ১৭

উপভোগ করিতে লাগিল; তাহার! জড়সড় হইয়া ভয়ে ভয়ে গির্জীর ঘড়ির দিকে টাঠিতে লাগিল, কিন্তু অন্ধকারে কিছুই ঠাহর করিতে পারিল না দো পিল, “বারোটা বাজতে এখনও এক কোয়াটার বাকি আছে। 21 কিখ- এল বালে! এখন বোধ হয় বুঝতে পারছ আমার সেই 87. ০5 পুঙ্গা 1 শকটুতেই যেন আজ রাত বারোটায় মরে এই £্র-এই ছিল তার ভয়। সম্ভবত আজকের 17127 8 ভাবতেন সে যমের সেই গাড়ির ক্যাচকৌচ ১:72 00 8, অন্বার কথা-সে নাকি গত বছর

5141. “শ্তনেছি সে। এই পর্বদিনেই মরেছে, তবে ঠিক সময়টা জানি না। মামি কিন্ত না জানলেও বলতে পারতাম সে এই দিলই গরদে। সত নময় মনগুমূরে "এখন মরব না এখন মরব না” ভাবলে ওই পগ্ঠ্ট এক ছবে। সাবধান, রোগে যেন তোমাদেরও না পেয়ে বসে, যা হলে তোমাদেরও ওই ছুর্গতি হবে 1”

শ্রোতা দুইজন একসঙ্গে দুইটি বোতল তুলিয়৷ লইয়া এক ঢোকে অনেকখানি মদ গিলিয়া৷ ফেলিয়া অল্পক্ষণেই বিষম মাতাল হইয়া! পড়িল তাহারা টলিতে টলিতে উঠিয়া দাড়াইতেই লম্বা লোকটি তাহাদের হাত (রিয়া বলিল, “আরে, যাও কোথায়? রাত বারোটা না বাজতেই বেরিরে বাওয়াটা কি ঠিক হবে?” সে দেখিল তাহার অভীষ্ট সিদ্ধ হুইয়াছে__ ইুইজনেই বেশ একটু ভয় পাইয়াছে। একটু হাসিয়া সে বলিল, “তোমরা এই ঠাকুমার গল্পে বিশ্বাস করলে নাকি? আমার সে বন্ধু ছিল ভারী রোগা, আমাদের মত জোয়ান নয়। এস, এস, বসে পড়ে মার একপাত্র ক'রে খাওয়া যাক।” সে ছুইজনকেই টানিয়৷ বসাইয়া

১৮ মুত্যুদূত

দিয় বলিল, “এখন আরও খানিকটা ঘ'সে থাকাই স্থবিধাজনক। এখানে এসে সমস্ত দিনের পর একটু হাফ ছেড়ে বেচেছি। নইলে যেখানে গেছি মুক্তি-ফৌজের চর ব্যাটারা তো আমাকে জালিয়ে খেয়েছে। সিন্টার ঈডিথ না কে মরতে বসেছে, আমাকে তার সঙ্গে দেখা করতে হবে! কেন রে বাপু? আমি তো 'যাব না” বলেও রেহাই পায় নি। এমন ফুভ্তির সময়ট! মরো-মরো রোগীর কাছে কে ধর্মকথা শ্বনতে পারে! তোমরাই বল।” অন্ত ছুই জনের বুদ্ধি তখন মদের ঘোরে ঘুলাইয়া উঠিয়াছে। ঈভিথের নাম শুনিবামাত্র তাহারা লাফাইয়! উঠিয়! জিজ্ঞাসা করিল, “গরিব- দুঃখী্দের ভালর জন্যে শহবে তীরই না একটা! আখড়া আছে?

“হ্যা হ্যা, ঠিক সেই বটে সমস্ত বছর ধরে মাগী আমার ওপর কি করুণাটাই না টালছে! আশা করি সে তোমাদের বিশেষ বন্ধু নয়। তা হ'লে তার মরার খবরে তোমাদের খুব কষ্ট হবে হয়তো।”

খুব সম্ভব হতভাগ্য ছুইজন ঈডিথের কোনও দয়ার কথা মনে রাখিয়াছিল। তাহারা জোর দিয়া বলিতে লাগিল যে, যদি সিষ্টার ঈডিথ কাহারও সঙ্গে দেখা করিতে চান, সে যে কেহই হউক না কেন,

তাহার কাছে তাহার অবিলম্বে যাওয়া উচিত।

“বটে, তোমাদেরও এই মত নাকি? আচ্ছা, আমি যাব, ষদি তোমরা আমাকে বুঝিয়ে দিতে পার আমার সঙ্গে দেখা হ'লে তার কি পরমার্থটা লাভ হবে ।”

লোক ছুইটি প্রস্থের উত্তর, না দিয়া বার বার তাহাকে ঈডিথের নিকট যাইতে বলিল, সেও হাসিয়া তাহাদের কথা উড়াইয়া দিল এবং শেষে বিরক্ত হইয়া “তাহাদিগকে করর্ধ্য গালি দিতে লাগিল। মাতাল ছুইজনেও ততক্ষণে রাগিয়৷ আগুন হইয়াছে তাহারা বলিল, সে নিজে হইতে এখনই সেখানে গেলে তাহারা তাহাকে শিক্ষা দিবে। তাহারা আন্তিন গুটাইত্বে লাগিল।

মৃতুদূত ১৯

দীর্ঘকায় লোকটির বিশ্বাস ছিল, সে শহরের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তি- শালী। তাহার্দের ক্রোধ সে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করিতে লাগিল, বরং বেচারীদের উপর তাহার করুণ হইল সে বলিল, “তোমরা! এভাবে যদ্দি ব্যাপারটার মীমাংসা করতে চাও, বহু আচ্ছা কিন্তু মশাইরা, ঝগড়াঝাটি মিটিয়ে ফেললেই ভাল হয় না কি? বিশেষ ক'রে এখনই যে গল্পটা শুনলে সেটার কথাও তো ভেবে দেখা উচিত। কিছু তে৷ বলা যায় না ।”

কিন্তু মাতাল দুইজনের তখন বিচারের ক্ষমতা লোপ পাইয়াছে। তাহারা কেন মারামারি করিতে যাইতেছে তাহ সম্পূর্ন বিস্থৃত হইয়ারছ। কিন্তু তাহাদের পাশব প্রবৃত্তি জাগিয়া৷ উঠিয়াছে_-এখন তাহাদিগকে নিরস্ত করা অসম্ভব। প্রতিপক্ষের অস্থর-শক্তির কথা গ্রাহ্হ না করিয়া তাহারা হিতাহিতজ্ঞানশূন্ হইয়া মুষ্টি দৃঢ় করিয়া তাহাদের সঙ্গীকে আক্রমণ করিল। কিন্তু আক্রান্ত লোকটি ব্যস্ত না হইয়া সম্পূর্ণ নির্বিকার ভাবে বসিয়া বসিয়াই তাহাদের আঘাত প্রতিরোধ করিতে লাগ্নিল__আত্ম- শক্তিতে তাহার এতই বিশ্বাস! তাহারা! তাহার নিকট যেন এক জোড়া কুকুরছানা। কিন্তু তাহারাও নিরম্ত হইল না) কুকুরছানার মতই গেঁ ধরিয়৷ তাহাকে আঘাত করিতে চেষ্টা করিল। এই ধন্তাধস্তির মধ্যে একজন অতকিতে উপবিষ্ট লোকটির বুকে প্রচণ্ড আঘাত করিল: পরক্ষণেই তাহার চারিদিক অন্ধকার হইয়া আসিল; মাথা ঝিমঝিম করিয়া উঠিল। তাহার মনে হইল যেন তপ্ত রক্তঝোতৃ বুক হইতে মুখে উঠিতেছে-__বুঝি তাহার ফুস্ফুদ ফাটিয়া গিয়াছে দেখিতে দেখিতে সে মৃচ্ছাহতের ন্যায় মাটিতে পড়িয়া গেল; তাহার মুখ দিয়া অবিশ্রান্ত রক্তম্ত্রাব হইতে লাগিল। |

বেচারার দুর্ভাগ্য ; তাহার অবস্থা আরও সাংঘাতিক হইল যখন সপ্থিত পাইয়া সে দেখিল, মাতাল ছুইজন রক্ত দেখিয়া ভড়কাইয়া গিয়া তাহাকে

ৃত্াদূত

একদম খুন করিয়াছে ভাবিয়া পলায়ন করিয়াছে, সে একাকী সেখানে পড়িয়া আছে। বক্তআ্রাব বন্ধ হইয়াছে বটে, কিন্তু একটু নড়িলে চড়িলেই আবার তাহা দেখা দিতেছে।

সে বাত্রে বিশেষ শীত-ছিল না, কিন্তু সেই ভিজা মাটিতে পড়িয়া থাকিয়া তাহার কেমন শীত-শীত করিতে লাগিল; হাত পা যেন জমাট বাঁধিয়া গিয়ছে। সে কেমন একটা অদ্ভূত অস্বস্তি অন্ুভব করিতে লাগিল। তাহার ভয় হইল যদ্দি কেহ সেদিকে আসিরা তাহাকে সাহায্য না করে তবে তাহার মৃত্যু অনিবাধ্য অথচ মে শহরের একেবারে বুকের উপরে বসিয়া। উৎসব উপলক্ষ্য দলে দলে লোক রাস্তায় বাহির হইয়াছে; তাহাদের পায়ের শব্ধ তাহার কানে আসিয়! বাজিতেছে;' তাহাদের হাস্য কৌতৃকালাপ সে স্পষ্ট শুনিতে পাইতেছে। কিন্তু কেহ নিকটে আসিল না। হায়, সাহায্য এত কাছে থাকা সত্বেওকি তাহাকে এমন ভাবে মরিতে হইবে! সেই ভয়াবহ অসম চিন্তায় সে অন্ফুট আর্তনাদ করিয়া উঠিল।

সে পরম আগ্রহে সাহায্যের প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। শীতের প্রকোপ ক্রমশ অসহ বোধ হইতে লাগিল। এই দুর্বল শরীরে উঠিয়া দাঁড়াইবার চেষ্টা বৃথা সে প্রাণপণে বলসঞ্চয় করিয়া সাহায্য প্রার্থনা করিয়া চীৎকার করিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে তাহার মাথার উপরে রজার ঘড়িটি টং ঢং করিয়া বাজিয়া উঠিল-_সে যেন মৃত্যুর আহ্বান। সে শিহরিয়া স্তব্ধ হইল।

সেই বিরাট ধাত্যন্ত্ররে শব্ষে তাহার ক্ষীণ আর্তনাদ ডুবিয়া গেল, কেহই সাহাষ্য করিতে আঁসিল না। আবার শোণিতম্রাব শুরু হইল। ঘি অবিলম্বে কেহ তাহাকে রক্ষা করিতে না আসে, তাহা! হইলে বুঝি তাহার শরীরের সমস্ত রক্ত এই ভাবে নিঃশেষিত হইবে

সে ভাবিল, না, না, কখনই হইতে পারে না) এই বারোটার ঘণ্টা

মৃত্যুদূত ২১

বাজিবার সঙ্গে সঙ্গেই কি তাহার প্রাণবায়ু বহির্গত হইবে ! অথচ তাহার ুর্ববল চিত্তে কেবলই আশঙ্কা হইতে লাগিল সে বুঝি নির্বাণোন্ুখ প্রদীপের মত হইয়! আসিয়াছে।. |

সে হতাশ হইয়া মাটিতে লুটাইয়া পড়িল। ঘড়ির শেষ ঘণ্টা বাজিবার সঙ্গে সঙ্গেই তাহার সমস্ত চেতনা বিলুপ্ত হইল। বাহিরে তখন নৃতন বংসরকে অভিনন্দন করিবার জন্য আনন্দ কোলাহলের বান ডাকিয়াছে!

মৃত্যু-যান

গিঞ্জাচুড়ার ঘড়িটি বারো বার ঢং ঢং শবে দিগন্ত ধ্বনিত করিয়া তুলিতে না তুলিতেই আর একটি তীন্ষ তীত্র শব শ্রুত হুইল) তাহা যেন আকাশকে চিরিয়া ফেলিতেছিল।

শব্দটি ঘন ঘন শোনা যাইতে লাগিল; অল্প একটু অবকাশের পর দিগুণ তীব্র হইয়া কানে বাজিতে লাগিল; ঠিক যেন কোন গাড়ির তৈল- হীন চাকার ঝযাচর্কোচ শব্দ; এত তীব্র এমন বীভৎস যে মনে হইতে- ছিল, এখনই গাড়িখানি চুরমার হুইয়৷ ভাড়া পড়িবে ঠিক যেন ব্যথিতের তীব্র আর্তনাদ। এশব কল্পনাতীত ব্যথা অনাগত যন্ত্রণার আশঙ্ক! মনে জাগাইয়া দেয়।

সৌভাগ্যের বিষয়, এই বিজাতীয় শব সকলের কানে পৌছিল না|) পুরাতন বৎসরকে বিদায় দিয়া নৃতন বৎসরকে অভিনন্দিত করিবার জন্য যাহারা পথে-ঘাটে সমবেত হইয়াছিল, তাহীরা৷ কেহ এই শব্ধ শুনিল না। যে আনন্দোন্মত্ত যুবকের! পথে পথে, বাজারের ধারে কিংবা গিজ্জার প্রাঙ্গণে কোলাহল করিয়া পরস্পরকে নৃতন বৎসরের শুভকামনা জরাপন করিতেছিল,

২২ মৃত্যুদূত

এই শব্ধ শুনিতে পাইলে তাহাদের আনন্দ-কলোচ্ছ্বাস বিষাদ-সম্ভাষণে পরিণত হইত ; নিজেদের আত্মীয়স্বজমের সমূহ বিপদাশঙ্কায় তাহারা শিহবিয়া উঠিত।

গির্জামগপে যে ধর্দধবজীদল “অহোরাত্রে” মাতিয়াছিল, এইমাত্র যাহার! ভগবানের প্রশংসায় তীহার প্রতি কৃতজ্ঞতায় নববর্ষের বন্দনা- গান আর্ত করিয়াছিল তাহারা এই শব্দ শুনিতে পাইলে সভয়ে স্তব্ধ হইত ইহাকে নরকবাসীর্দের বীভৎস আর্তনাদ ক্রুর পরিহাস মনে করিয়া চমকিয়া উঠিত। |

নগরের আনন্দ-সম্মিলনে মদের পাত্র-হস্তে দণ্ডায়মান হইয়া যে বক্তা নব বৎসরের উদ্বোধনে হ্্বধবনি করিয়া পাত্র ওঠে তুঁলিতেছিলেন, এই কদর্য শ্মশানধবনি কর্ণগোচর হইলে স্তব্ধ হইয়া তিনি সমস্ত আশা- আকাজ্ষার বিফলতা ভবিষ্যতের ভগ্নোগ্ভমের চিত্র স্পষ্ট দেখিতে পাইতেন; গৃহে বসিয়া যাহারা নীরবে নববর্ধকে অভিনন্বিত করিয়া পুরাতন বৎসরের ন্তায়-অন্ায়-বিফলতা পুঙ্ান্সপুঙ্খরূপে বিচার করিতে- ছিল, তাহারা নিজেদের অসহায় অবস্থা! দুর্বলতার পরিচয় পাইয়! বিদীর্ণ বক্ষে গভীর হতাশা! অনুভব করিত।

সৌভাগ্যের বিষয় সেই শব্ধ মাত্র একটি প্রাণীর কর্ণগোচর ' হইল; বিবেকদংশন আত্মগ্নানিতে পীড়িত হইবার তাহার যথেষ্ট কারণ ছিল।

প্রচুর শোণিতক্ষয়ে 'লোকটি মুতের মত পড়িয়া ছিল সঙ্জানে আসিবার জন্য ছটফট করিতেছিল। সহসা সে অনুভব করিল যেন কেহ তাহাকে জাগাইবার চেষ্টা করিতেছে--যেন কোনও নিশাচর পাখী কিংবা ওই ধরনের কিছু তাহার মাথার উপরে উড়িয়া উড়িয়া চীৎকার করিতেছে। সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়িয়াছিল-_হয়তো৷ ইহা: স্বপ্নও হইতে পারে।

অল্পপরেই সে বুঝিতে: দার সেই চীৎকার কোনও পাখীর নহে)

তাত রি

তবে নিশ্চয়ই সেই যমের গাড়ি! ইহারই কথা কিছুক্ষণ পূর্ববে সে ভিক্ষুক রা নিকট গল্প করিয়াছে গাড়িটি খুব ধীরে ধীরে আসিতেছিল বং থাকিয়া থাকিয়া! তাহার চাকায় বীভৎস ক্যাচর্কোচ শব্ধ হইতেছিল। টি ঘুম চটিয়া গেল। অদ্ধজাগ্রত অবস্থায় সে নিজেকে প্রবোধ দিতে লাগিল_-খুব সম্ভব তাহার নিজের গল্পই তাহার মনের মধ্যে স্বপ্ন হইয়া দেখা দিতেছে ; যমের গাড়ি-টাড়ি নয়। সে নিশ্চিন্ত হইয়া পুনরায় ঘুমের চেষ্টা করিতে লাগিল কিন্ত আবার সেই শব্ধ! গাড়িখানি ষে তাহার দিকেই আসিতেছে ! তাহার বিশ্রামের আশা! দূর হইল এইবার তাহার দুঢ বিশ্বাস হইল যে, “বাস্তবিক গাড়ির শব্ঘই বটে- ন্বপ্ন বা ভ্রান্তি নহে। সেই শব্দ থামিবে বলিয়া বোধ হইতেছিল না, ডেভিড উঠিয়া বসা ছাড়া গতান্তর দেখিল না। সে লক্ষ্য করিল, ঠিক সেই স্থানেই সেই লেবুগাঁছের তলায় সে পড়িয়া আছে। কেহ তাহার সাহায্য করিতে আসে নাই যেমন ছিল সবই ঠিক তেমনই আছে; শুধু থাকিয়া! থাকিয়া সেই বীভৎ্ম আওয়াজ আসিতেছে সম্ভবত শব্দটি বহুদূর হইতে আসিতেছিল। ডেভিড রতি পারিল এই সর্বনাশ! শবই তাহার নিদ্রাভ্দের কারণ। তাহার প্রথমে সন্দেহ হইল, বুঝি বা সে বহুক্ষণ রি ছিল; তাহার পরই বুঝিতে পারিল যে, রাত্রি বারোটার পর খুব বেশি সময় অতি বাহিত হয় নাই; লোকেরা এখনও দল বীধিয়া চলাফেরা. করিতেছে, এই মাত্র সে তাহাদিগকে পরস্পর নব বৎসরের শুভকামনা জঁপন করিতে শুনিয়াছে। আবার সেই কর্কশ শব্দ! ডেভিড জোর আওয়াজ একেবারেই সহ করিতে পারিত না সে সেখান হইতে অন্যত্র উঠিয়া গিয়া সেই শব্দের হাত এড়াইতে মনস্থ করিল,__চেষ্টা করিয়া দেখাই যাক না। ঘুমভাঙার

২৪ মৃত্যুদূত

পর হইতেই সে নিজেকে বেশ স্স্থ মনে ক্রিতেছিল। বুকের ভিতরে ক্ষতের মুখ সম্ভবত বদ্ধ হইয়! গিয়াছে; তাহার শ্রান্তি কাটিয়া গিয়াছে। কন্কনে শীতের ভাবও আর নাই। সাধারণ হ্থস্থ লোকের মত দেহের অস্তিত্ব সে-ভুলিয়া গিয়াছে। নিজেকে তাহার ভারী হাক্ধ! মনে হইতেছিল। |

সে একপাশ ফিরিয়া পড়িয়া ছিল; রক্তম্রাব আরস্ত হইতেই এই ভাবে মাটিতে পড়িয়া যায়। সে প্রথমে পাশ ফিরিয়া চিত হইয়া শুইয়া নড়া- চড়া করাটা বর্তমান অবস্থায় ঠিক হইবে কি না পরীক্ষা করিবার চেষ্টা করিল |

কিন্তু অদ্ভূত ব্যাপার ! নিজেকে একটু তুলিয়া পাশ ফিরিবার প্রবল ইচ্ছা সত্বেও তাহার শরীর অসাড় হইয়া পড়িয়া রহিল; একটুও নড়িল নাঁ, তাহা! ধেন জড় পাষাণে পরিণত হইয়াছে

হয়তো বা ঠাগায় পড়িয়! থাকিয়া তাহার শরীর বরফের মত জমাট বাধিয়া গিয়াছে কিন্তু তাই বাকি করিয়া হয়? তাহা হইলে সে বাচিয়া আছে কি করিয়া? এবং বাচিয়া ষে আছে তাহাতে তাহার তিলমাত্র সন্দেহ নাই। সে সব কিছু দেখিতে শুনিতে পাইতেছে। তা ছাড়া সে রাত্রে এমন কিছু বেশি শীত ছিল না; মাথার উপরের গাছের পাতা হইতে টূপটাপ করিয়া! শিশিরবিন্দু গলিয়া পড়িতেছে।

যতক্ষণ অবাক হইয়া! সে এই অদ্ভুত পক্ষাঘাতের কথা ভাবিতেছিল, ততক্ষণ সেই বীভৎস শব্দের কথা তাহার মনে ছিল না।

আবার তাহ! কানে আসিল।

সে ভাবিল, “দূর ছাই, এই সঙ্গীতম্থধা থেকে আত্মরক্ষা করার কোনও উপায়ই নেই দেখছি--সহা করতেই হবে|”

অল্প কিছুক্ষণ পূর্বে পরব সুস্থ শরীরে “বহালতবিয়তে” ঘুরিয়াছে ফিরিয়াছে, নিব্বিবা্দে এমম্প জড়ের মত নে পড়িয়া থাকিতে পারে না।

মুত্যুদূত

একটু নড়িবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করিল, কিন্তু একটি আঙুল, এমন কি খের পাতা পর্যন্ত নড়ানো তাহার সাধ্যাতীত বোধ হইল আগে কেমন রিয়া হাত পা নাড়িত ভাবিয়। সে অবাক হইল।. সে অপূর্ব কৌশলটি যমন করিয়াই হউক সে ভুলিয়া গিয়াছে

শব্ধ ক্রমশ কাছে আমিতে লাগিল। সে অন্থভব করিল তাহ! লং শিট দিয়। বাজারের দিকে আগিতেছে। গাড়িখানির যে জীর্ণ দশা, সে বযয়ে আর সন্দেহ নাই। এখন শুধু চাকার ক্যাচর্কোচ নয়, কাঠের ঠামোটির ঘটঘট শবও শোনা যাইতেছে; কাঠের রাস্তায় ঘোড়ার পিছলাইবার শব্দ পধ্যন্ত স্পষ্ট শোন! যাইতেছে; যমের গাড়িখানির বুঝি ইহা অপেক্ষা কদর্য হইবে না। যমের গাড়ির কথা মনে ইতেই বন্ধু জর্জের ভয়ের কথা মনে পড়িল।

ডেভিড ভাবিল, “একটা পুলিসও আসে না ছাই! তাদের ওপর মার খুব ভালবাসা নেই বটে, কিন্তু বাবাজীদের কেউ এসে যদি বিশ্রী শব্দটা! বন্ধ ক'রে দেয়, তবে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দি ।”

নিজের মনের জোরের উপর ডেভিডের খুব আস্থা ছিল, কিন্তু তাহার হইতে লাগিল, আজিকার রাত্রির ঘটনায়, বিশেষ করিয়া এই জদন্য বে, তাহার সমস্ত শক্তি ওলট-পালট হইয়া গিয়াছে। এই অবস্থায় হাকে পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া! যদি কেহ মৃতদেহ-সন্দেহে তাহাকে ারস্থানে লইয়! গিয়া কবর দিয়া ফেলে! সে ভড়ে' শিহরিয়া ল। ..

বাপরে! তাহার দেহের চারিপাশে লোকে হা-হুতাশ করিবে, মন্ত্র করিবে আর সে সঙ্ঞানে তাহাই শুনিবে! এই চাকার আওয়াজের পেক্ষা। তাহা! বেশি মিষ্ট শুনাইবে না। :

হঠাৎ তাহার সিন্টার ঈডিখের কথা মনে পড়িল। তাহার বিন্দুমাত্র ত্বগ্নানি হইল না, ঈডিথের উপর ভীষণ. রাগ হইতে লাগিল; সেই

মৃত্যুদত

বেটাই তো! তাহার এই ছুরবস্থার কার; তাহারই জন্য তো তাহাকে এই ভাবে জব্দ হইতে হইতেছে

আবার সেই বাতাস-চের! কর্কশ শব্দ! তাহার কানে তালা লাগিয়া গেল। এই হতাশ অবস্থায়, জীবনে অন্তের প্রতি সে যত অন্যায় করিয়াছে তজ্জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করিল না অন্তে তাহার প্রতি যত অন্তায় করিয়াছে সেই কথাই মনে করিয়া সে ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল।

নিজের দুরদৃষ্টের কথা চিন্তা করিয়া তাহার মন তিক্ততায় ভরিয়া গেল। সে মিনিটখানেক স্তব্ধ হ্ইয়া মনোঘোগসহকারে সেই শব শুনিতে লাগিল ! না, নিশ্চয়ই সে মরে নাই; গাড়িখানি লং স্টীট ছাড়িয়! বাজারের দিকে তোধায় নাই ; শান-বাধানো রাস্তায় ঘোড়ার ক্ষুরের শব্ধ হইতেছে না; খোয়া-বিছানো রাস্তার উপর ঘোড়ার পায়ের শব আসিতেছে তাই তো, তাহার দিকেই গাড়িখানি আসিতেছে-_এই ঝোপের পথেই তাহ! প্রবেশ করিল।

সাহাধ্য পাইবার আশায় খুশি হইয়| সে উঠিয়া বসিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু তাহার সমস্ত দেহ পূর্বব অচল। শুধু তাহার চিন্তারই গতিশক্তি আছে, দেহ অনাড়। সে স্পষ্ট শুনিতে পাইতেছে সেই কালজীর্ণ গাড়িখানি নিকটে আসিতেছে। তৈলহীন চাকার কান্না, কাঠামোর কাঠুলির আর্তনাদ, ঘোড়ার সাজের খটখট ঝনঝন শব্দ, সমস্ত মিলিয়া গাড়িধানির এমন ছুরবস্থার পরিচয় গ্রাওয়া যাইতেছিল যে, মনে হইল বুঝিবা তাহার কাছ পর্য্যন্ত আসিয়া পৌছিবার পূর্বেই তাহা টুকরা টি হইয়া ভাঙিয়। প়িবে।

গাড়িখানির গতি মৃ্র। গাড়িটি, তাহার নিকটে আসিতে আসলে ষতখানি সময় লাগিল একা পড়িয়া! থাকার দরুন মানসিক অসহিষ্ণতায় ডেভিডের কাছে সময় তাহা অপেক্ষা অনেক দীর্ঘতর বলিয়৷ বোধ হইল। সে বুঝিয়া উঠ্ঠিতে পারিল না এই পর্বদিনে গিঞ্জার ভিতরের

মৃত্যুদূত ২৭

কট। ঝোপের ধারে গাড়ি চালাইয়া আনার কি কারণ ঘটিতে পারে। কাচোয়ান নিশ্য়ই মাতাল হইয়া থাকিবে, না হইলে এই বে-পথে সে ডি হাকাইত না। হায় হায়, মাতালের কাছে তো সাহায্যের প্রত্যাশা ঠাই সে নিজেকে নিজেই আশ্বস্ত করিতে লাগিল, “সম্ভবত এই চাকার টানা শুনেই আমি এমন হতাশ হয়ে পড়ছি; গাড়িটা এদ্রিকেই আসছে মাহাষ্যও পাওয়া! যাবে, নিশ্চয় ।” _ গাড়িখানি তাহার কয়েক গজের মধ্যে আঙিয়া পড়িল; চাকার শবে মাবার তাহার মন খারাপ হইতে লাগিল, “আজ অনুষ্টটা দেখছি ভারী ধারাপ, গাড়িটা যেমন ভাবে আসছে- আমাকে দেখছি মাড়িয়েই যাবে, টা খুব স্থখের হবে ব'লে তো মনে হচ্ছে না।” : গাড়িখানি দৃষ্টিগোচর হইল--ভয়ে তাহার বুদ্ধিশ্দ্ধি লোপ পাইতে বদিল। শরীরের অন্যান্ত অঙ্গের মৃত তাহার চোখের তারাও নিশ